ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিতে ওসির পৃষ্ঠপোষকতা ছিল?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 27 September, 2026, 9:26 PM

রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিতে ওসির পৃষ্ঠপোষকতা ছিল?

রাড্ডার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিতে ওসির পৃষ্ঠপোষকতা ছিল?

শাহআলী থানার ওসির পৃষ্ঠপোষকতাতেই মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা এমসিএইচর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় একজন যুবদল নেতা ও পুলিশের বক্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে।তারা বলছেন, থানার সদ্য সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলেই ছিলেন, তার সামনেই রাড্ডার কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

সব জেনেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।তবে কেন তিনি দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়, এ নিয়ে তদন্ত চলছে।জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাড্ডার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াতের মীর আহমাদ বিনকাশেম তার ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার জন্য বিএনপির সংরক্ষিত আসনের দুই নারী এমপি ও তাদের অনুসারীদের দায়ী করেছেন।অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হোক।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ৫০ বছর ধরে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সংস্থার কার্যালয়ের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিকা দেওয়ার সরঞ্জাম ট্রাকে ভরে নিয়ে নিয়ে গেছে।

ঘটনার রাতেই এ দখলবাজি ঠেকাতে শাহআলী থানার ওসি ও মিরপুর বিভাগের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন শাহআলী থানা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদুল মিরাজ।

সেই রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে মিরাজ লিখেছিলেন, মিরপুর-১ মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের পাশে ‘রাড্ডা’ এখন দখল হচ্ছে।…প্রায় ৭/৮০০ শত লোকজন রাত দেড়টায় মাথায় লাল কাপড় পরে দখল চালাচ্ছে এখনো। শাহ্ আলী থানার ওসিকে এই বিষয়ে অবগত করেছি ১ ঘন্টা আগেপুলিশের সামনেই ভাংচুর হচ্ছে কোন জবাব নেই। কতো টাকার বিনিময়ে একটি মানবিক সেবার কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলার চুক্তি হয়েছে সবার কাছে তার জবাব দিতে হবে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রোববার এই যুবদল নেতা বলেছেন, এটা ভাঙতে তিন-চার ঘণ্টা লাগছে। আমি ওসি সাহেবকে ফোন দিছি। এরপর আমি ডিসি সাহেবকে ফোন দেওয়ার পর তিনি আন্তরিকতা দেখাইছেন। পরে ডিসি সাহেব ওসিকে ফোন করলে ওসি তাকে বলছেন, ‘এমন কিছু না, ১০-১৫ জন আসছে, একটা দোকান নিয়ে ঝামেলা হইছে।’ তিনি ঘটনাটি মিটিয়ে দিচ্ছেন বলেও ডিসিকে জানান।

যুবদল নেতা মিরাজ বলেন, এরপর আমি আবার ফোন দিছি ডিসি সাহেবকে, জিজ্ঞেস করছি ওসি সাহেব গেছেন কী না। ডিসি সাহেব বললেন, ‘হ্যাঁ গেছে। তবে মিরাজ ভাই আপনারা যেভাবে বলছেন ঘটনা সেরকম না। ১০-১৫ জন একটা দোকান নিয়ে লাগছে। আমি ডিসি সাহেবকে বললাম, আপনার ওসির ওটা চোখ না চুলা। কয়েকশ লোক ভাঙচুর চালাচ্ছে।

তার অভিযোগ, এসব কথোকথনের মধ্যে অনেক সময় পার হয়ে যায়।তিনি বলেন, এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করার পর শাহআলী থানার ওসি আমাকে ফোন বলেন বলল, ‘ভাই কোন ঠিকানাটা জানি বলছেন?

শাহআলী থানার ওসি ঘটনাস্থলেই ছিলেন দাবি করে মিরাজ বলেন, আমার কিছু লোকজন ঘটনাস্থলে ছিল, লাগায়া রাখছিলাম। তারা দেখছে, ওসি সাহেবের গাড়ি এখানে দাঁড়ানো। তার সামনেই লুটের মালে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ অলরেডি যখন লুটপাট হচ্ছে তখন এখানে ওসির গাড়ি দাঁড়ানো। ওসির সামনে লুটপাট হয়েছে। আমার লোকজন দেখছে। কিন্তু আমি কোনো ফুটেজ পাচ্ছিলাম না। পরে আমি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।

এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলছেন, আমাকে মিরাজ সাহেবকে ফোন দিয়েছিলেন। তারপর আমি ওসি সাহেবকে যেতে বলি। এরপরে সেখানে কী হয়েছে সেটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আপনারা ওসির কোনো সম্পৃক্ততা পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আমি সেই কমিটিতে নেই।

তবে পুলিশের মিরপুর বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ওসি জাহাঙ্গীরের অবস্থান পাওয়া গেছে। কিন্তু তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছেন সেখানে তেমন কিছু হচ্ছে না।

এমনকী ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ফোনে ধরিয়ে দেন, যিনি ওসির পক্ষে সাফাই দেন যে এখানে তেমন কিছুই হচ্ছে না। এটা সামান্য একটা জমির গণ্ডগোল।

এ বিষয়ে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি থাকার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এর জন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় শনিবার শাহ আলী থানার ওসিকে বদলি করার অফিস আদেশ জারি করে ডিএমপি।এছাড়া এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আর ভাঙারীর দোকানে বিক্রি করে দেওয়া বেশ কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status