|
কিশোরগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() কিশোরগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ভুক্তভোগী সাধারণ ও প্রায় ৫২ জন ঠিকাদারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট এ সংক্রান্ত একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে যোগদানের পর থেকেই দপ্তরটি অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ![]() কিশোরগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ লিখিত অভিযোগে ঠিকাদাররা বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: এলটিএম ও ওটিএম টেন্ডারে অনিয়ম: ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে নিয়ম অনুযায়ী এলটিএম (LTM) টেন্ডার করার কথা থাকলেও তা না করে, নিজের পছন্দের ৪-৬ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে পার্টনারশিপে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ১ মাসের মধ্যে ৩৫-৪০টি ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করা হলেও সেগুলোর বিজ্ঞপ্তি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় প্রকাশ না করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মধ্যে কাজ বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি করেন ঠিকাদাররা। রাজস্ব ক্ষতি ও কমিশন বাণিজ্য: এলটিএম ক্যাটাগরির কাজ ওটিএম প্রক্রিয়ায় করিয়ে সরকারি রাজস্ব বিপুল পরিমাণ ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। ৮০% কাজ এলটিএম করার নিয়ম থাকলেও অসাধু উপায়ে পছন্দসই হাতে গোনা কয়েকজন ঠিকাদার ছাড়া বাকি ৫২ জন সাধারণ ঠিকাদারকে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। নামমাত্র ও ভুয়া বিলে অর্থ আত্মসাৎ: গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে নিজস্ব ঠিকাদারদের দিয়ে ভুয়া ও অতিরিক্ত বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করার বিষয় স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ই/এম কাজের বিল চুক্তি সম্পাদনের ১ দিনের মধ্যেই প্রদান এবং সিকিউরিটি ডিপোজিটের কোটি কোটি টাকা ও চেকের মাধ্যমে ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি সম্পদ অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: কর্মকর্তা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকায় যাতায়াত করেন এবং সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি অফিসে থাকেন না বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া অফিসে অনুসন্ধান করতে গেলে তিনি "ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন" বলে ভুয়া তথ্য প্রদান করা হয়, যার ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি কোয়ার্টার (যেমন- পাট গবেষণায় অবস্থিত কোয়ার্টার) সংস্কার না করায় তা পরিত্যক্ত জমিতে পরিণত হয়ে দখলের ঝুঁকিতে পড়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্রভাব বিস্তার: অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজ জেলা নাটোরে দুটি বাড়ি এবং ঢাকায় ১০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবাদী ঠিকাদার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসংসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বদলির হুমকি প্রদানের বিষয়েও অভিযোগ উঠে এসেছে। লিখিত স্মারকলিপিতে বিক্ষুব্ধ ঠিকাদারবৃন্দ গণপূর্ত দপ্তরের স্বচ্ছতা ও সরকারি রাজস্ব রক্ষার্থে অতি দ্রুত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্মারকলিপির অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও তদারকি বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
