ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ডাকাতি পর প্রবাসীর কিশোর ছেলেকে জিম্মি করে মাকে গনধর্ষনের ঘটনায় আসামির বাড়িঘর ভাংচুর করেছে এলাকাবাসী। তবে, এ ঘটনার কিছুই জানে না পুলিশ। মঙ্গলবার ( ২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের কালিবাড়ী চর এলাকায় স্থানীয়রা দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আসামিদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। তবে এ সময় অভিযুক্ত আসামীদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় স্থানীয় প্রবীনরা। স্থানীয় সুত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার কালীবাড়ি চর এলাকায় শত শত বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, জিম্মি করে ছেলের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার আসামি শরীফ, আরিফ, ফাহিম, আসামি রাজিবের, এবং আসামী এনামুলের, বাড়িতে ভাংচুর শুরু করে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আসাসীদের টিনের বসতঘরের বেড়া ও চাল ভাংচুর করে টিনগুলো খুলে নিয়ে বাড়ির পাশে স্তুপ করে রাখে। এ সময় এলাকার প্রবীনরা আসামিদের পরিবারের সদস্য ও ঘরের মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নিতে সাহায্য করতে দেখা যায়। আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে স্থানীয় লোকজন গত রবিবার ও সোমবার সন্ধ্যায় নিজেদের মধ্যে দুই দফা আলোচনা করে। এবং আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আসামিদের বাড়িঘর ভাংচুর করে। তবে, এই সময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি। স্থানীয় কবির হোসেন আকন্দ বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক, লজ্জাজনক, লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। আজ বিক্ষুদ্ধ জনতা আসামিদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতি শেষে ডাকাতদল প্রবাসীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, বেঁধে রেখে ছেলের সামনেই মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারন করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাত তিনটার দিকে থানা পুলিশ রাজিব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে গত শুক্রবার রাতে ভিক্টিম নারী বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গ্রেপ্তার রাজিব আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। গফরগাঁও থানার কর্তব্যরত (ডিউটি অফিসার) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোরাদ খান বলেন, আসামিদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা কেউ থানায় জানায়নি। তবে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি বলেও জানান তিনি।