ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
অপ্রতিমকে হত্যার নির্দেশ ও আইফোন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা তুহিনের
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 21 September, 2026, 6:02 PM

অপ্রতিমকে হত্যার নির্দেশ ও আইফোন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা তুহিনের

অপ্রতিমকে হত্যার নির্দেশ ও আইফোন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা তুহিনের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যাকাণ্ডের পরদিন সাইফুল ইসলাম তুহিনকে (১৯) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। অপ্রতিম যে আর নেই, তখনও পর্যন্ত বিষয়টি জানা ছিল না তাদের। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশের কাছে পৌঁছায়।

তদন্তকারীরা জানান, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত আটটার দিকে সে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে, যদিও তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি। ঠিক সেসময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদের (১৫)। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্তকারীরা ফাহাদকেও হেফাজতে নেন। এরপর তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. কামরুল হাসান (১৬) নামের আরেক কিশোরকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনজনকে একত্রে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল বর্ণনা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোর গ্যাং লিডার তুহিনই মূলতঃ আইফোন ছিনতাইয়ের পুরো পরিকল্পনা করে এবং তার নির্দেশেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন সে মোবাইলে ডেকে আনে ফাহাদ ও কামরুলকে। তাদের সঙ্গে নিয়েই ছিনতাই ও পরে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার পরদিন তুহিন পুরো বিষয়টি তার সমবয়সী বন্ধু সিয়ামকে (১৯) খুলে বলে। বর্তমানে এই চারজনই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুহিন নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বাইক ছিনতাই কিংবা বিক্রির কথা বলে ক্রেতা আসলে জিম্মি করে টাকা লুট করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তুহিনের আরেক বন্ধু নীরব এইসব অপরাধের ঘনিষ্ঠ সাথী। তারা একত্রে মোটরসাইকেল চালাত এবং অপ্রতিমও তাদের কাছ থেকে নিয়ে মোটরসাইকেল চালাত।

তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁঘা সালমানপুর সানন্দা এলাকার নুরে আলমের ছেলে। তার পরিবারও এসব কথা জানতও।

স্থানীয়রা দাবী করছে, তুহিন বেশ ‘পাওয়ারফুল’। তবে এই ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলছেন না।

ফাহাদ অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী

হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ঘাতক মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানর ডেলিভারিম্যান। মাত্র ১৬ দিন আগে সে চাকরিতে যোগ দেয়। এখনও তার সাথে চুক্তিপত্র হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ধস্তাধস্তির সময় বাঁশ দিয়ে অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করে মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন। এরপরই আঘাত করে ফাহাদ। তারপর মো. কামরুল হাসান। তারা মৃত্যু নিশ্চিত করে। তিনজনই হত্যাকারী।

তিনজনেরই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল পুলিশকে জানিয়েছে শুধুমাত্র আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করতে হয়েছে।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও তাই মনে করছেন। সোমবার সকালে জানতে চাইলে তিনি জানান, আইফোনটি ১৭ প্রো ম্যাক্স মডেলের।

অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদির শোরুম রয়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে। নাম ইয়েসটেক। তাদের গন্ধমতি কোটবাড়ির বাসা, মায়ের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সবই কাছাকাছি এলাকায়। ব্যবসাটির পার্টনারশিপ রয়েছে। দুইজন মিলে করছেন।

ফাহাদের বাসাও কাছাকাছি একই এলাকার। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে ফাহাদ। তার বাবা পেশায় অটোচালক। বাবা-মায়ের অনুরোধেই চলতি মাসের ২ তারিখ তাকে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হত্যায় জড়িত সবাই বখাটে। অনিয়মিত, কিংবা ঝরে পড়া ছাত্র।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status