|
বাগমারায় বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, দু’পক্ষের ধস্তাধস্তি
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বাগমারায় বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, দু’পক্ষের ধস্তাধস্তি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সভাপতির পদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার ভাগনে ইদ্রিস আলীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইদ্রিস আলী ২০০৯ সালে ডিগ্রি পাস করেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রীকে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রদানের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাদের নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করা হয়েছে। স্থানীয়দের নিয়োগ না দিয়ে দূর-দূরান্তের লোকজনকে বেশি অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয় জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী আত্মগোপনে চলে যান। এদিকে প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিনের স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটান। এরপর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী ও সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমানের পক্ষের কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ সময় অভিযোগকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। খবর পেয়ে বাগমারা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তবে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। আগামী মঙ্গলবার অফিসে গিয়ে অভিযোগটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। তবে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
