|
ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচন
রাষ্ট্রপতির ভাই ও মেয়েকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে চলছে নতুন সমীকরণ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() রাষ্ট্রপতির ভাই ও মেয়েকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে চলছে নতুন সমীকরণ মির্জা ফখরুলের অনুপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে জামায়াতের নির্বাচনি রাজনীতি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থিতা চূড়ান্ত না হলেও আসন ধরে রাখতে চায় দলটি। রাষ্ট্রপতির ভাই ও মেয়েকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে চলছে নতুন সমীকরণ। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীকেন্দ্রিক হিসাবনিকাশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এই আসনটিতে ইতোমধ্যেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. দেলাওয়ার হোসেন। দলীয় সমর্থন জোরালো করার পাশাপাশি তৃণমূলের গণসংযোগ ও ভোটব্যাংক পোক্ত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ধানের শীষের শক্ত প্রার্থী হিসাবে রাজপথে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতির ছোটভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক অবস্থান এবং তৃণমূলের বড় অংশের জোরালো সমর্থনের কারণে তাকেই বিএনপির সম্ভাব্য সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রার্থী মনে করা হচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের সঙ্গে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যাপকসংখ্যক ভোট পেয়ে নজর কেড়েছিলেন। মির্জা ফখরুল ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় মির্জা পরিবারের রাজনীতির নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির হাল ধরবেন মির্জা ফয়সাল আমিন। যদিও একাংশের মাঝে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জাকে ঘিরে গুঞ্জন রয়েছে। অবশ্য রাজনীতিতে আসা কিংবা পরিবারের উত্তরসূরি হিসাবে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে ড. শামারুহ মির্জার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় নাগরিকদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের যেসব মেগা উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে মির্জা ফয়সাল আমিনের কোনো বিকল্প নেই। ঠাকুরগাঁও লাউ থুতি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রশিদ মন্তব্য করেন, উপনির্বাচনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ দিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ কয়েকটি শক্তি ঐক্যবদ্ধ প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ভোটারদের বড় অংশের দাবি, ঐক্যবদ্ধ এই প্রচেষ্টা ভোটে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ভোট রয়েছে, যা নির্বাচনি ফলাফলে বড় ধরনের অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। সচেতন মহলের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এসব সম্প্রদায়ের ভোটাররা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবেন। উত্তর হরিহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল মনে করেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এলাকার চলমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত রাখতে সাধারণ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তই বেছে নেবেন। কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে শিগগিরই।’ সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, অঘোষিতভাবে আমি এই নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে অফিসিয়াল প্রসেস এখনো শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অবশ্য নানা মন্তব্য ও সমীকরণ তোয়াক্কা না করে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, জনগণ আমাকে প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিলে এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি আপসহীন থাকব।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
