ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন মা, দুজনেই পেলেন জিপিএ-৫
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 11 August, 2026, 4:28 PM

ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন মা, দুজনেই পেলেন জিপিএ-৫

ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন মা, দুজনেই পেলেন জিপিএ-৫

বিয়ের পর থেমে যায় পড়াশোনা। কেটে যায় ১৭ বছর। সেই মা-ই একদিন ছেলের সঙ্গে বই হাতে নেন, বসেন এসএসসি পরীক্ষায়। ফল প্রকাশের পর ছেলের সঙ্গে মায়ের মুখেও হাসি। মা পেয়েছেন জিপিএ-৫, আর ছেলে গোল্ডেন জিপিএ-৫। রাজশাহী নগরের রাজপাড়া এলাকার সাদিয়া বেগম ও তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদের এই সাফল্য এখন এলাকাজুড়ে আনন্দের কারণ।

তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর তার মা সাদিয়া বেগম এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেন নগরের রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দুজনই ভাল ফল নিয়ে পাস করেছেন।

মা সাদিয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষাজীবনে ফেরার গল্প। প্রায় ১৯ বছর আগে বিয়ের পর থেমে যায় তাঁর পড়াশোনা। সংসারের ব্যস্ততা ও সন্তানদের লালন-পালনে কেটে যায় ১৭ বছর। এত দীর্ঘ সময় বই-খাতা থেকে দূরে থাকলেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহটা তার মধ্যে থেকেই যায়। দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর শুরু করেন পড়াশোনা।

সংসারের কাজ সামলানো, দুই ছেলের পড়াশোনার খোঁজ রাখা এবং নিজের পড়াশোনার প্রস্তুতি—সবকিছু একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তারপরও এনেছেন ভালো ফলাফল।

সাদিয়া বেগম জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিয়ের পর নানা কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ পেয়ে তিনি আর পিছিয়ে যেতে চাননি। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে ছেলের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরিবারের সবাই এতে সম্মতি দেওয়ায় প্রস্তুতি শুরু করি। এখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা কঠিন হলেও চেষ্টা করেছি নিয়মিত থাকতে।’

ফল প্রকাশের পর নিজের জিপিএ-৫-এর চেয়ে ছেলের গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দও কোনো অংশে কম নয় বলে জানান সাদিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘নিজের পড়াশোনা চালিয়ে সফল হওয়ার পাশাপাশি ছেলের এমন ফলাফল পুরো পরিবারের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

মায়ের সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়াকে নিজের জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছে তানভীর আহমেদ। সে বলে, মায়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের। একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেরই জিপিএ-৫ পাওয়া তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তানভীর জানায়, মা শুধু তার পড়াশোনার খোঁজই রাখতেন না, নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যেতেন। অনেক সময় সে পড়ার সময় মা রাত জেগে তার পাশে বসে থাকতেন। একই সঙ্গে দুজনের পড়াশোনার প্রস্তুতির সময়গুলো তাদের জন্য আলাদা এক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status