|
তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু অস্ট্রেলিয়ার
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু অস্ট্রেলিয়ার ভ্যানকুভারে ডি গ্রুপের ম্যাচে, বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নেস্ট্রয় ইরানকুন্ডা দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর ম্যাটক্যাফে। আটটি চমৎকার সেভে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। ম্যাচে আধিপত্য ছিল ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের। প্রায় ৭২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে ৩০টি শট নেয় তারা! যার আটটি ছিল লক্ষ্যে। সেখানে গোলের জন্য স্রেফ নয় শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের শুরুটা এদিন ছিল একদমই ম্যাড়ম্যাড়ে। প্রথম ২৫ মিনিটে দুই দলের কেউই উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি। ২৬তম মিনিটে দুই দল মিলিয়ে লক্ষ্যে প্রথম শট নেয় তুরস্ক। সতীর্থের কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি আর্দা গিলের। তার শট সরাসরি যায় গোলরক্ষকের হাতে। সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে গোল করে অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের অর্ধ থেকে উড়িয়ে বল বাড়ান পল ওকন। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একজনকে পেছনে ফেলে, আরও দুই ডিফেন্ডারের মাঝে দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইরানকুন্ডা। উল্লাসে মাতে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার ২০ বছর বয়সী ইরানকুন্ডা। জাতীয় দলের হয়ে ষষ্ঠ গোল করলেন শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গার। দুই মিনিট পর সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল তুরস্ক। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন আবুদলকারিম বারদাকচি। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের হাতের হালকা ছোঁয়ায় পাল্টে যায় বলের দিক। বল আঘাত হানে পোস্টে। এরপর আরও কয়েকটি আক্রমণ শাণায় তুরস্ক। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়াও প্রতি-আক্রমণে দুয়েকবার ভীতি ছড়ায় প্রতিপক্ষ শিবিরে। গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠা তুরস্ক দ্বিতীয়ার্ধে আরও গোছানো ফুটবল খেলে। প্রতিপক্ষের আঙিনায় একের পর এক হানা দিতে থাকে তারা। কিন্তু বারবার তাদের হতাশ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা। সুযোগ সন্ধানী অস্ট্রেলিয়া কর্নার থেকে গোল করার দারুণ একটি সুযোগ পায়। কিন্তু হ্যারি সুটারের হেড ঠেকিয়ে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক। অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া তুরস্ক ৫৬তম মিনিটে ফ্রি কিক পায়। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া গিলেরের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন বিচ। বারবার আক্রমণে উঠলেও শেষটা ভালো হচ্ছিল না তুরস্কের। বলা ভালো, তাদেরকে সেই সুযোগই দিচ্ছিলেন না অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা ও গোলরক্ষক। তুরস্কের একের পর এক শট প্রতিহত হয় প্রতিপক্ষের রক্ষণে। খেলার ধারার বিপরীতে ৭৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অস্ট্রেলিয়া। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে বাঁ পাশের নিচের কোণা দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যাটক্যাফ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সিনিয়র ফুটবলে দ্বিতীয় গোল করলেন ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। কিছুক্ষণ পর বক্সে বল পেয়ে যান তুরস্কের আক্তুরহলো। গোলমুখে পাওয়া বল গোলরক্ষক বরাবর মারেন তিনি। দারুণ দক্ষতায় ৮৫তম মিনিটে কালহানোহলোর ফ্রি কিক বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বিচ। এরপর আরও কয়েকটি আক্রমণ করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা আর পায়নি তুরস্ক। দুই যুগ পর বিশ্ব মঞ্চে ফেরার দিন হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। আগামী শনিবার প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে তুরস্ক। আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে লড়বে অস্ট্রেলিয়া। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
