পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ।
এ পরিস্থিতিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোসাইন এক ফেসবুক পোস্টে চলমান বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ।
পোস্টে তিনি বলেন, মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর কিছু আঞ্চলিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার মতবিরোধ ছিল এবং তিনি মন্ত্রীর ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি ।
ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক বলেন, দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে নিজ যোগ্যতায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে তাকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতেন—এ ধরনের অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয় ।
তিনি উল্লেখ করেন, দীপেন দেওয়ান কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তার পদত্যাগপত্রেও অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাই পদত্যাগের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চেয়ে স্বাস্থ্যগত কারণ অধিক গ্রহণযোগ্য বলে তিনি মনে করেন।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন অবস্থায় স্থানীয় কোনো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে মন্ত্রীর বিরোধের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনগত বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকায় সরকার ব্যারিস্টার মীর হেলালকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন । দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে ঘিরে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হলেও কোনো পক্ষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই দীপেন দেওয়ানকে কোনো আঞ্চলিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি কিংবা ব্যারিস্টার মীর হেলালকে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
চলমান বিতর্কের অবসানে দীপেন দেওয়ানকে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানান ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোসাইন। তার মতে, এতে বিভ্রান্তি, গুজব ও অপপ্রচারের অবসান ঘটবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার সংস্কারে দীপেন দেওয়ান ও ব্যারিস্টার মীর হেলালের সমন্বিত নেতৃত্ব থেকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করেছিলেন। তবে এই জুটির একজনের আকস্মিক পদত্যাগে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি আশা করেন, সব ধরনের বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার দূর করে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।