ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৭ মে ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিড়াল রহস্য: সাত বছরে পাঁচ প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটেনে কি শাসন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 17 May, 2026, 12:01 PM

বিড়াল রহস্য: সাত বছরে পাঁচ প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটেনে কি শাসন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে

বিড়াল রহস্য: সাত বছরে পাঁচ প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটেনে কি শাসন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে

ব্রিটিশ রাজনীতির গল্পটা বলা যায় কয়েকটি সংখ্যা দিয়ে। মাত্র সাত বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী, কেউই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। একই সময়ে সাতজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ছয়জন অর্থমন্ত্রী ও চারজন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বদলেছেন। ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, রিশি সুনাক, এখন কিয়ার স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দা হয়তো এখন বিড়াল ল্যারি। এই চিত্রটাই বলে দিচ্ছে, ব্রিটেনে নেতৃত্বের সংকট কতটা গভীর।

সোশ্যাল মিডিয়া ও এমপিদের বিদ্রোহ, নেতৃত্বকে দুর্বল করছে নতুন বাস্তবতা
ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্টের প্রধান নির্বাহী হানাহ হোয়াইট মনে করেন, ব্রিটেন অশাসনযোগ্য নয়, কিন্তু একের পর এক সংকটের মুখে রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল নেতৃত্ব উপহার দিয়েছে। ইউকে ইন অ্যা চেঞ্জিং ইউরোপের অধ্যাপক অ্যানান্ড মেনন বলছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সেটাকে কাজে লাগাতে না পারা নেতৃত্বের ব্যর্থতা, কাঠামোগত সমস্যা নয়।

সোশ্যাল মিডিয়াও পরিস্থিতি জটিল করেছে। সাবেক পরামর্শক থিও বার্ট্রাম বলছেন, দেশের সমস্যাগুলো ঠিক করতে ১০ বছর লাগে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ বছর নেই। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিনের মধ্যে বিদ্রোহ সংগঠিত হয়ে যায়। স্টিভ বেকার লিখেছেন, মন্ত্রী ও হুইপরা যখন পৌঁছান, সোশ্যাল মিডিয়া তখন আলোচনা শেষ করে ফেলেছে।

সিভিল সার্ভিস ও ডাউনিং স্ট্রিটের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস

স্টারমার নিজেও স্বীকার করেছেন, লিভার টানলে নিয়মকানুন, পরামর্শ ও দূরত্ব তৈরি হয়, বাস্তবায়ন হতে অনেক সময় লাগে। ব্যারোনেস ক্যাভেন্ডিশ বলেছেন, প্রতিটি সরকার অফিসে এসে অবাক হয় কাজ কতটা কঠিন। সিভিল সার্ভিস সংস্কারের দাবি এখন সরকারি মহলেও উঠছে। অন্যদিকে সিভিল সার্ভেন্টরা বলছেন, মন্ত্রীরা স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে ভুলে গেছেন।

লর্ড হিল মনে করেন, ডাউনিং স্ট্রিটে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন মন্ত্রীদের অপ্রাসঙ্গিক করে দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত জমে থাকছে, কার্যকর হচ্ছে না।

ভোটারদের অধৈর্য ও কঠিন সত্য বলার সাহসের অভাব

সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর বলেছেন, লাখো মানুষ চায় কোনো নেতা সত্যিকারের সমস্যার কথা পরিষ্কারভাবে বলুক এবং সমাধানের পথ দেখাক। কিন্তু নেতারা সেই সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেছেন, না বলতে পারাটাই রাজনীতির একটা বড় অংশ। সরকারগুলো সেটা ভুলে গেছে।

ইতিহাসবিদ স্যার অ্যান্থনি সেলডন বলেছেন, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও স্টারমার প্রত্যেকেই প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক দক্ষতার ঘাটতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং সাহায্য নেওয়ার বিনয়টুকুও ছিল না তাদের। অথচ মার্গারেট থ্যাচারেরও ছিল উইলি হোয়াইটল্যাব নামের পরামর্শদাতা।

লর্ড উড বলছেন, নেতাদের উচিত দেশকে কঠিন সত্য বলা। রাজস্বের বাস্তবতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার চাহিদা সৎভাবে তুলে ধরা এবং স্পষ্ট মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটা পরিকল্পনা নিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা। সেটা না হলে ব্রিটেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status