|
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে এসটিএস নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে এসটিএস নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উদ্যানের ডেপুটি রেঞ্জার (রেঞ্জ কর্মকর্তা) আরিফুল ইসলাম জানান, সোমবার হাইকোর্ট এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে এসটিএস নির্মাণের উদ্যোগ নেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক্সকাভেটর দিয়ে খনন কাজ চলছে এবং প্রায় ৫০ ফুট সীমানাপ্রাচীর ভেঙে সেখানে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শাল-গজারীসহ বিভিন্ন বনজ গাছ কেটে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ ছিল। বর্তমানে প্রায় ২৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণকাজ চলছিল। বন বিভাগের সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল শ্রমিকদের থাকার জন্য একটি শেড নির্মাণ করা হলে ১২ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে তা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে পরদিন বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে এসে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়। ![]() ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে এসটিএস নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী অভয়ারণ্যের আশপাশে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও শুধু কৃষিকাজের অনুমতি রয়েছে। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর-এর গাজীপুর কার্যালয় স্থানটি পরিদর্শন করে জানিয়েছে, এসটিএস নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। তাদের প্রতিবেদনে ওই স্থানে এ ধরনের স্থাপনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাওয়াল গড় বাঁচাও আন্দোলনের মহাসচিব রিপন আনসারী বলেন, প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল হাসান বলেন, যেখানে এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এবং সিটি করপোরেশন তা ভাড়া নিয়েছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, জমিটির তিন দিকেই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানা রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিকল্প জমি না পাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার ও বন-পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, প্রায় ৫ হাজার ২২.২৯ হেক্টর বনভূমি নিয়ে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও গবেষক সেখানে ভিড় করেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
