|
বিএনপি কৃষক বান্ধব সরকার - সুনামগঞ্জে দূর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রী
মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ
|
![]() বিএনপি কৃষক বান্ধব সরকার - সুনামগঞ্জে দূর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুত তিন মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে জেলা পর্যায়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল ২টায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জ একটি এক ফসলি অঞ্চল এ অঞ্চলের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। আমাদের মন্ত্রণালয় একটি মানবিক মন্ত্রণালয় আমরা সবসময় মানুষের পাশে আছি এবং থাকব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ তালিকা তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত হবে, অতি ক্ষতিগ্রস্ত, মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত এবং অল্প ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেসব কৃষকের একমাত্র জীবিকা কৃষি, তাদেরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও বিতর্কমুক্ত তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এ কাজে আন্তরিকতা ও পরিশ্রম প্রয়োজন। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, সেখানে আপনাদেরও কিছুটা কষ্ট করে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করতে হবে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই সহায়তা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখা যায়, সে বিষয়েও সরকার বিবেচনা করবে। বজ্রপাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলে এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিটি হাওর এলাকায় পর্যায়ক্রমে আশ্রয়শেড নির্মাণ করা হবে এবং সেগুলোর ওপর বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে আগাম বজ্রপাত শনাক্ত করতে সাইরেন ব্যবস্থাও চালু করা হবে। সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব করে একটি টেকসই ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বাংলাদেশের কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ আজ যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, ভবিষ্যতে যেন তাদের আর এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ওয়ার্ড ও ব্লক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন। দেশের মাটির অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে পরিমাণ সার ব্যবহার করা হয়, তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি, যা দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা এই মাটির সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কৃষি ও কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জলাবদ্ধতা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বাঁধ নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সমন্বিত করে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। কারণ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তাই হাওর অঞ্চলের বাঁধগুলো এমনভাবে নকশা করতে হবে, যাতে কৃষি ও কৃষকের কোনো ক্ষতি না হয়। নিজেকে কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমিও একজন কৃষক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। তিনি নিয়মিত কৃষকদের খোঁজখবর নিতে আমাদের নির্দেশ দেন। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেলে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমাদের বলেন। মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, হাওরাঞ্চলে এবার অতি বৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে দেশীয় হাওর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আগে যেভাবে ফ্ল্যাশ প্ল্যাড হতো এখন এরকম হয়নি। একারণে হাওরের বাঁধ, সেচ প্রকল্প, ধান চাষ এবং ইকোসিস্টেমকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি হাওর উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। এই সরকার কৃষকের কাছ থেকে সমস্যা শুনে তারপর সমাধানের চেষ্টা করছে। কৃষক কার্ড ও ফ্যামেলি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকৃত দরিদ্রদের চিহ্নিত করে স্কোরের ভিত্তিতে এসব কার্ড প্রদান করছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। মতবিনিময় সভা শেষে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ কৃষকের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
