|
ঝিনাইদহে ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ: অভিযুক্ত গ্রেফতার
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ঝিনাইদহে ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ: অভিযুক্ত গ্রেফতার অনুসন্ধানে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের ছিদাম হালদারের ছেলে সৌরভ কুমার নিতাই পেশায় একজন ডেকোরেটর মিস্ত্রি হলেও তার নজর ছিল পাশের গ্রামের এক মাদরাসা ছাত্রীর দিকে। প্রায় ৮ মাস আগে সুকৌশলে ওই ছাত্রীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সে। এরপর প্রেমের অভিনয় শুরু করে সহজ-সরল মেয়েটির সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত জানুয়ারি মাসে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রথমবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সৌরভ। ওই সময়ই লম্পট যুবক অত্যন্ত সুকৌশলে মোবাইলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের নগ্ন ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে রাখে, যা ভিকটিম শুরুতে বুঝতে পারেনি। পরবর্তীতে নিজের আসল রূপ ধারণ করে সৌরভ। ধারণকৃত ওই আপত্তিকর ভিডিও ভিকটিমের মোবাইলে পাঠিয়ে সে দাবি করতে থাকে যে, কথা না শুনলে বা শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি এই অপমান মুখ বুজে সহ্য করার চেষ্টা করলেও সৌরভের লালসা বেড়েই চলে। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সৌরভ ওই ছাত্রীর বাড়িতে হানা দেয়। পুনরায় ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে তাকে বাড়ির পেছনে একটি নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। চলে যাওয়ার সময় সে হুমকি দিয়ে যায় যে, ভবিষ্যতে তার দাবি মানা না হলে এই গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিকটিম অবশেষে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। বিষয়টি শোনার পর গত সোমবার (৪ মে) ভিকটিমের মা মোছাঃ চামেলী খাতুন কোটচাঁদপুর থানায় হাজির হয়ে সৌরভের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সৌরভকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এর ৮ ধারায় মামলা (মামলা নং-০৫) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং জব্দকৃত মোবাইলে ধারণকৃত আপত্তিকর ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এদিকে একজন দাখিল পরীক্ষার্থীর সাথে এমন জঘন্য ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো নারীর সম্মান নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
