|
বিসিবি ও ক্রিকেটারদের বিরোধ মেটানো ‘হেলদি ডিসকাশনে’ কী কথা হয়েছিল?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বিসিবি ও ক্রিকেটারদের বিরোধ মেটানো ‘হেলদি ডিসকাশনে’ কী কথা হয়েছিল? বিসিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলো নতুন সূচি অনুযায়ী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটে বৃহস্পতিবার বিপিএলের ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। ক্রিকেটাররা বয়কটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় দিনের দুটি ম্যাচই স্থগিত করা হয়। এই সমঝোতার পরপরই বিপিএলের নতুন সূচি প্রকাশ করেছে বিসিবি। শুক্রবার থেকে মাঠে গড়াবে বিপিএলের ঢাকা পর্ব। রাতে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার পর কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় তারা আবার মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মিঠুন বলেন, ‘এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোয়াব সেটিকে সমর্থন করে না। তবে বোর্ডের সঙ্গে 'হেলদি ডিসকাশন'-এর মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বোর্ড তাদের দাবিগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শুক্রবার থেকে আবার খেলায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেটাররা।’ কী সেই 'হেলদি ডিসকাশন'? ভারতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, এ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিসিবির অর্থ বিভাগের প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তিনি তা করেননি। এরপর বিকেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। তবে কোয়াব জানায়, নাজমুল ইসলামকে তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। বিসিবি সেই দাবি মানতে রাজি হয়নি। এরপরও ক্রিকেটে ফেরার ঘোষণা দেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। মিঠুন বলেন, ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় তারা শুক্রবার থেকে আবার মাঠে নামছেন। বিসিবির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি জায়গায় পৌঁছানো গেছে, যা কোয়াবের সদস্য ও উপস্থিত ক্রিকেটাররা গ্রহণ করেছেন। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান জানান, চেষ্টা করেও আপাতত নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে তাকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া চলবে। তবে তিনি যোগ করেছেন, ‘আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর যে মন্তব্য করেছেন আমরা মনে করি এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, এমন মন্তব্য ওনার করা উচিত হয়নি’। বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে ইফতেখার রহমান বলেন, ‘ক্রিকেটারদের কারণেই আইসিসি পয়সা দিচ্ছে, আমরা স্পন্সর পাচ্ছি, মাঠ চালাচ্ছি। ক্রিকেট প্লেয়ার ছাড়া আমরা কেউই না কোথাও।’ তিনি জানিয়েছেন, বিতর্কিত মন্তব্য করা বোর্ড ডিরেক্টর নাজমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে এই সংবাদ সম্মেলনে আনার চেষ্টা করেছে বিসিবি, কিন্তু যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া জানতে বিবিসি বাংলা থেকেও নাজমুল ইসলামের মোবাইল ও হোয়াটস্যাপ মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও প্রত্যুত্তর আসেনি তার পক্ষ থেকে। এই প্রসঙ্গে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে ক্রিকেটারদের দাবিগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াগতভাবে সমাধান করা হবে, এমন আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি।’ দুপুরে কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে বয়কটের পেছনে আরও চারটি কারণের কথা জানান ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে ঢাকার ক্রিকেটের চলমান সংকট, নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলোও উঠে আসে। এসব বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। কোয়াব বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের খেলা বন্ধ থাকলে নারী ও পুরুষ জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব ১৯ দল এবং চলমান বিপিএলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।’ এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কোয়াব। পরিচালক পদ নিয়ে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বিসিবি যে সময় চেয়েছে, সেটুকু দিতে তারা প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে। তবে কোয়াবের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট প্রত্যাশাও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রকাশ্যে অপমানজনক মন্তব্য করায় এম নাজমুল ইসলামের প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
