ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
১০ মাস পর সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ
রফিক মাহমুদ, উখিয়া
প্রকাশ: Sunday, 30 November, 2025, 5:23 PM

১০ মাস পর সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ

১০ মাস পর সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ

দীর্ঘ ১০ মাস প্রতীক্ষার পর ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। থাকছে রাতে থাকার সুযোগও। তবে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন না। এছাড়াও মানতে হবে ১২ নির্দেশনা।

সরকারি ১২ নির্দেশনা অনুসরণ করে পরবর্তী দুইমাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) দ্বীপটিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকেরা।

গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধ থাকায়  কোন জাহাজ যায়নি দ্বীপটিতে। অন্যদিকে গতবছর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছে চারটি জাহাজ। প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক এসব জাহাজে করে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রা করবেন।

পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ বলে গণ্য হবে।

প্রথম দিনের যাত্রায় তিনটি জাহাজের অগ্রিম প্রায় ১৫'শের অধিক টিকেট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, 'চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর সকল প্রস্তুতি ভালোভাবে নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'

তিনি আরো জানান, 'পর্যটকদের আগ্রহ সন্তোষজনক, তবে পরবর্তী মৌসুম থেকে অন্তত ৪ মাস যদি রাত্রিযাপনের সুযোগ মিলে তাহলে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা তাঁর।'

দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনের খবরে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে দ্বীপের বাসিন্দাদের মাঝে, নানা সংকটেও ভ্রমণপিয়াসুদের বরণে প্রস্তুত দ্বীপের বাসিন্দারা।

সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, 'পর্যটন ব্যবসাই আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন, পর্যটকদের বরণে এখানকার মানুষ মুখিয়ে আছে। হয়তো অনেক সংকট আমাদের আছে তারপরেও দ্বীপবাসী আতিথেয়তায় কোন কমতি রাখবে না।'

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, এবার দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যাতে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্যের উপর কোন ধরণের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সেন্টমার্টিনের সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রি, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়াও সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান-শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

একইসাথে প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, 'সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ, সরকারের আরোপিত নির্দেশনাগুলো মেনে চলা সকল পর্যটকদের জন্য অপরিহার্য। আশা করছি দ্বীপে ভ্রমণ করতে যাওয়া পর্যটকগণ প্রবাল দ্বীপের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সহযোগিতার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে প্রসারিত করবেন।'

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল সাতটায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরের দিন বিকেল তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status