|
হকার-দোকানদার সংঘর্ষের জেরে কিশোরগঞ্জে শাটডাউন, প্রধান সড়ক অবরোধ
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
|
![]() হকার-দোকানদার সংঘর্ষের জেরে কিশোরগঞ্জে শাটডাউন, প্রধান সড়ক অবরোধ রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে এই কর্মসূচি পালন করছে তারা। শাটডাউনের অংশ হিসেবে রথখলা, তেরীপট্টি, কাচারীবাজার মোড়, বড় বাজার, গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা, জনসাধারণ ও যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। এছাড়াও দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ফুটপাতে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। জানা যায়, শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে শহরের রথখলা এলাকায় এক ক্রেতা হকারের কাছ থেকে পণ্য কেনার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকান পাল ফেব্রিক্স এর মালিক শুভ্র কর হকারকে জিজ্ঞেস করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। হকারদের হামলায় শুভ্র কর ও কর্মচারী আউয়াল মিয়া আহত হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে দোকানদার ও হকারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এই ঘটনার পর রাতেই দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বিক্ষোভ করে ফুটপাত উচ্ছেদের দাবিতে রবিবার শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষনা করে। ব্যবসায়ী টুটুল মিয়া বলেন, শনিবার রাতে ফুটপাতে পণ্য ক্রয় করার সময় এক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হোন। দোকানদার বিষয়টি হকারকে জিজ্ঞেস করায় হকররা হামলা করেছে। প্রতিদিনই ফুটপাতে হকররা ব্যবসা করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। আর এই সুযোগে ভীরের মধ্যে ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে চলে যায়। জাহাঙ্গীর আলম হীরা বলেন, অবিলম্বে হকার মুক্ত শহর চাই। আমরা দোকান মালিক আমাদের দোকানে তাদের জন্য প্রবেশ করতে পারি না। দোকানের সামনে ভ্যানগাড়ী নিয়ে ব্যবসা করে। দোকানে প্রবেশ করতে পারি না। তাদের কিছু বললে গালিগালাজ করে মারতে আসে। তাদের ভাব-সাব বুঝা যায় তারা মালিক আর আমরা ভাড়াটিয়া। তাদের রাজনৈতিক নেতারা শেল্টার দেয়, কিছু বলতে পারি না। প্রায় সময় কাস্টমারদের মারধর করে। পণ্য কিনতে না চাইলেও জোরপূর্বক দিয়ে দিতে চাই। তারা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করে কেউ কোন কিছু বললে সব হকাররা একসাথে হয়ে আক্রমণ করে। ব্যবসায়ী বিপ্লব সরকারের ভাষ্য, গত ৫ আগষ্টের পর থেকে ফুটপাতে হকার বেড়ে গেছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কিছু বলতে গেলেই হামলা করে। শনিবারের ঘটনার মতো অনেক ঘটনা প্রায় সময় ঘটে। কোন ব্যবসায়ী ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাইনা। পুরানথানা, বড় বাজার, গৌরাঙ্গ বাজার, তেরীপট্টি, কাচারিবাজার মোড়ে সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি দোকান হবে। সকল ব্যবসায়ী একত্রিত হয়েছি। ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ চাই। বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন দিলু বলেন, ফুটপাত দখল, অবৈধ দোকানপাট স্থাপন ও যত্রতত্রভবে ভ্যানগাড়ির অবস্থানের কারণে চলাচলে নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। ফুটপাতজুড়ে হকারদের অবৈধ দখলদারিত্ব দীর্ঘদিন ধরেই শহরের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক ব্যবসার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অবৈধ দোকান, স্থাপনা ও ভ্যানগাড়ি উচ্ছেদ না হলে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেই জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুরো শহর জুড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
