ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
কচা নদী ও শাখা নদীগুলো দখলে নিঃস্ব হচ্ছে দেশীয় মাছের ভান্ডার
এ এইচ অনিক
প্রকাশ: Sunday, 30 November, 2025, 6:13 PM

কচা নদী ও শাখা নদীগুলো দখলে নিঃস্ব হচ্ছে দেশীয় মাছের ভান্ডার

কচা নদী ও শাখা নদীগুলো দখলে নিঃস্ব হচ্ছে দেশীয় মাছের ভান্ডার

বরিশাল অঞ্চলের কচা নদীর শাখা-প্রশাখা এবং উজিরপুর–আগৈলঝাড়া উপজেলার ছোট-বড় নদীগুলো আজ অবৈধ ঝাইল, চরজাল, বাধাজাল ও চায়না দুবরীর দৌরাত্ম্যে মারাত্মকভাবে দখল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু মাছ শিকারী নদী, খাল ও সরকারি খাসজমি ব্যবহার করে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরজাল, চায়না দুবরী ও বাধাজালের অতিরিক্ত ব্যবহার নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে। মাছের ডিম, পোনা ও ছোট আকারের দেশীয় মাছ এসব জালের চিকন ছিদ্রে আটকে ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে পুটি, রয়না, গুড়ো চিংড়ি, গোধা চিংড়ি, বেলে সহ বহু সুস্বাদু দেশীয় মাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এসব মাছকে কেবল বইয়ের পাতায় বা গল্পের মধ্যেই দেখবে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।

ঝাইল দখল করে অর্থ উপার্জন করছে অসাধু একটি চক্র

নদীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় বাঁশ পুঁতে ডাল-পাতা ও কচুরিপানা দিয়ে ঝাইল তৈরি করে নির্দিষ্ট একটি চক্র সেগুলো “নিজস্ব সম্পত্তি” হিসেবে ভাড়া দিচ্ছে। প্রতি ঝাইল থেকে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে অবৈধভাবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারি খাসজমি দখল করে এমন ব্যবসা পরিচালনার কারণে রাষ্ট্র প্রতিবছর হারাচ্ছে লক্ষাধিক টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব।

নদীতে নেই একটুও ফাঁকা জায়গা

সাতলা, বাগধা, শিবপুর, আমবৈলা, নয়াকান্দী ও হারতা সাতলা নদীর প্রায় প্রতিটি স্থানে রয়েছে ঝাইল ও বাধাজালের দাপট। একসময় এসব নদী ছিল দেশীয় মাছের প্রজননের অন্যতম কেন্দ্র। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল ইসলাম বালী জানান, “আগে সাতলার বাজারগুলোতে প্রতিদিন নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। অল্প টাকায় মানুষ ঘরে ঘরে নিয়ে যেতো। এখন নদীতে সাদা মাছের চাষ ও অবৈধ জালের কারণে দেশীয় মাছ একেবারেই দুর্লভ হয়ে গেছে।”

অভয়ারণ্যেও নিরাপত্তাহীনতা

মৎস্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন নদীতে মাছ রক্ষায় অভয়ারণ্য তৈরি করেছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব অভয়ারণ্যের কচুরিপানার নিচে গোপনে পেতে রাখা হচ্ছে চায়না দুবরী ও চরজাল। উজিরপুরের সাতলার ছিদ্দির ঘোপ অভয়ারণ্যেও একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।

কর্তৃপক্ষের নীরবতায় ক্ষোভ

নদী রক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অবৈধ এসব জাল অপসারণে তেমন কোনো অভিযান নেই, বরং অসাধু ব্যক্তিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে দেশের প্রাকৃতিক মাছের ভান্ডার বৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

স্থানীয়দের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এখনই যদি উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একযোগে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ জাল জব্দ, ঝাইল অপসারণ, দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা নিশ্চিত করে—তাহলেই নদী-খালগুলো উদ্ধার এবং দেশীয় মাছ সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

নয়তো অদূর ভবিষ্যতে বরিশালের খাল–বিল–নদী হয়ে পড়বে মাছশূন্য, আর প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ হারিয়ে যাবে চিরতরে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status