ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে কি বাধ্য করা যাবে, কী আছে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 17 November, 2025, 7:57 PM

হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে কি বাধ্য করা যাবে, কী আছে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে?

হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে কি বাধ্য করা যাবে, কী আছে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে?

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, দুই দেশের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের যে দাবি বা অনুরোধ জানিয়েছিল, তার কী হবে?

বিবিসি বাংলা বলছে, এর সহজ উত্তর হলো– সেই চিঠি পাওয়ার পর বছর ঘুরতে চললেও ভারত সেটি নিয়ে এতদিন একেবারে চুপচাপ বসেছিল। কিন্তু এবার হয়তো মুখ খোলার জন্য তাদের ওপর চাপ বাড়বে।

প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি কূটনৈতিক পত্র বা ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।

তার মাত্র দুদিনের মধ্যে সেই নোট ভার্বালের প্রাপ্তি স্বীকার করা হলেও এরপর তারা সেই অনুরোধ নিয়ে কী ভাবছে বা কী অবস্থান নিচ্ছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিয়ে আজ পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেনি।

তবে একান্ত আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বারবারই বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির হাজারটা ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে এই হস্তান্তরের অনুরোধ নাকচ করার বা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রেখে কালক্ষেপণ করার অজস্র সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে ভারত যে কোনো সময় সেই রাস্তাও নিতে পারে।

পরিস্থিতি কতটা পাল্টালো?

গত বছরের ডিসেম্বরে যখন প্রথম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ জানিয়ে নোট ভার্বাল পাঠানো হয়, তখন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা সবে শুরু হয়েছে। তখনও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেননি, রায় ঘোষণা তো অনেক দূরের কথা।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা শুরু হয়ে গেছে। আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে হেনস্তা বা আনিসুল হক-সালমান এফ রহমানকে কিল-ঘুসি মারার ঘটনাও ঘটেছে।

সেসব ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে ভারতের কর্মকর্তারা তখন অনানুষ্ঠিকভাবে সব সময়ই বলতেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না বা তিনি ন্যায়বিচার পাবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণেই ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেওয়া দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। কারণ শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের আদালতে গণহত্যার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।

এমন একজন অন্য দেশের পলাতক ও দণ্ডিত অপরাধীকে ভারত কেন দিনের পর দিন ধরে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, সেই কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর অবশ্যই এখন চাপ বাড়বে।

ফলে ধারণা করা যেতেই পারে, আজই না হোক খুব শিগগির ভারতকে আবার এ ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ উপেক্ষা করে যাচ্ছে। সেই বিবৃতি বা বক্তব্য যখনই আসুক, তাতে অবশ্য এই প্রশ্নে ভারতের মৌলিক অবস্থান একেবারেই পাল্টাচ্ছে না।

অন্যভাবে বললে, শেখ হাসিনাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ভারতকে হয়তো এখন নানান সাফাই বা কৈফিয়ত দিতে হবে। কিন্তু তারপরেও শেখ হাসিনাকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

প্রত্যর্পণ চুক্তির ফাঁকফোকর
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে। সেটি হলো- যার হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা যদি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতি’র হয় তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করা যাবে।

তবে, কোন কোন অপরাধের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলা যাবে না, সেই তালিকাও বেশ লম্বা। এর মধ্যে হত্যা, গুম, অনিচ্ছাকৃত হত্যা ঘটানো, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো ও সন্ত্রাসবাদের মতো নানা অপরাধ আছে।

এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব মামলা দায়ের হয়েছিল তার মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগও আছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে ‘রাজনৈতিক’ বলে খারিজ করা কঠিন।

তার ওপর ২০১৬ সালে যখন মূল চুক্তিটি সংশোধন করা হয়, তখন এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করে তুলেছিল।

সংশোধিত চুক্তির ১০(৩) ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো অভিযুক্তের হস্তান্তর চাওয়ার সময় অনুরোধকারী দেশকে সেই সব অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ না করলেও চলবে। শুধু সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা পেশ করলেই সেটিকে বৈধ অনুরোধ হিসেবে ধরা হবে।

কিন্তু এরপরেও চুক্তিতে এমন কিছু ধারা আছে, যেগুলো প্রয়োগ করে অনুরোধ-প্রাপক দেশ তা খারিজ করার অধিকার রাখে। যেমন, অনুরোধ-প্রাপক দেশেও যদি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ’র মামলা চলে, তাহলে সেটা দেখিয়ে অন্য দেশের অনুরোধ খারিজ করা যায়।

শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে অবশ্য এটা প্রযোজ্য নয়। কারণ ভারতে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হচ্ছে না বা অচিরে হওয়ারও লক্ষণও নেই।

দ্বিতীয় ধারাটি হলো, যদি অনুরোধ-প্রাপক দেশের মনে হয় ‘অভিযোগগুলো শুধু ন্যায়বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি’– তাহলেও তাদের সেটি নাকচ করার ক্ষমতা থাকবে।
অভিযোগগুলো যদি ‘সামরিক অপরাধ’র হয়, যা সাধারণ ফৌজদারি আইনের পরিধিতে পড়ে না, তাহলেও একইভাবে অনুরোধ নাকচ করা যাবে।

ফলে ভারত এখনো অনায়াসেই বলতে পারে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পেয়েছেন বলে তারা মনে করছে না এবং সে কারণেই তাকে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়।

অর্থাৎ ‘অভিযোগগুলো শুধু ন্যায়বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি’– এই ধারাটি ব্যবহার করেই তখন প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করা যাবে বলে মনে করেন দিল্লির অনেক পর্যবেক্ষক।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status