ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৫ জুলাই ২০২৬ ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
চাঁদাবাজির মামলায় ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার ৮ বছরের কারাদণ্ড
মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি
প্রকাশ: Friday, 10 October, 2025, 11:11 PM

চাঁদাবাজির মামলায় ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার ৮ বছরের কারাদণ্ড

চাঁদাবাজির মামলায় ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার ৮ বছরের কারাদণ্ড

রাঙ্গামাটির পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও চাঁদা সংগ্রহের দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটল অবশেষে আদালতের রায়ে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)–এর প্রভাবশালী নেতা মাইকেল চাকমাকে চাঁদাবাজির মামলায় ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজমুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও স্থানীয়রা।
২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর। পার্বত্য রাঙ্গামাটির লংগদু থানার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা ও তার সহযোগী সুমন চাকমার বিরুদ্ধে।
সেদিন নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয় এবং পরদিন লংগদু থানায় চাঁদাবাজির মামলা (নং–৫/২০০৭) দায়ের হয়। মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী, যিনি অভিযোগ করেছিলেন— ইউপিডিএফ নেতা হিসেবে মাইকেল চাকমা নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতেন।
আদালতের রায় ও অভিযোগ প্রমাণ দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত রায়ে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মাইকেল চাকমাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত সুমন চাকমাকেও সমপরিমাণ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মাইকেল চাকমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতেই আদালত রায় দেন। আদালতের বেঞ্চ ক্লার্ক আসাদুজ্জামান চাকমা জানান, রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ১৮ বছর ধরে মামলাটি ঝুলে ছিল। অবশেষে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায় পাহাড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে অবৈধ চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলে আসছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, এমন রায় ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে স্বস্তি ও সাহস যোগাবে। চাঁদাবাজির ভয়টা এবার কিছুটা হলেও কমবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় পার্বত্য এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাব খাটানোর মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সামনে নিয়ে এসেছে।
২০০৭ সালে দায়ের করা মামলাটি একাধিকবার সাক্ষ্যগ্রহণ, পুনঃতদন্ত ও সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। অবশেষে ২০২৫ সালে এসে মামলার নিষ্পত্তি হয়।
আইনজীবী মহল বলছে, এ ধরনের পুরোনো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status