|
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জহুরুল আলমের নির্বাচন করার আগাম ঘোষণা
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জহুরুল আলমের নির্বাচন করার আগাম ঘোষণা গতকাল ১৫সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১০টায় পাটেশ্বরী বাজারে তার নিজেস্ব কার্যালয়ে বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এই ঘোষণা দেন। মতবিনিময়ে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা- কর্মী, স্থানীয় গন্যমান্য সুশীল ও সূধীব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জনাব জহুরুল আলম বিএনপিতে তার রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা উত্থাপন করে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিতে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫- সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা কমিটির - সহ-সভাপতি ছিলাম। ২০২৫- সালের ফেব্রুয়ারিতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়, কমিটিতে আমাকে নুন্যতম সদস্যপদও দেয়া হয়নি। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুঃসময়ের অন্যতম কান্ডারি হিসেবে তার মতো অনেক প্রবীণ ত্যাগী নেতাকর্মীকে বিএনপির জেলা- উপজেলা কমিটিতে না রাখায় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি এখন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি এও উল্লেখ করে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার নীলনক্সা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে কোথায় কাকে সেট করা হবে এনিয়ে চলছে হিসাব- নিকাশ, দেন দরবার ও কাদা ছোড়াছুড়ি। আমরা বঞ্চিত ত্যাগীনেতারা সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিব ইনশাআল্লাহ। এই পরিস্থিতিতে জনাব জহুরুল আলম বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিকে দ্বিধাবিভক্ত করতে দেয়া হবে না। নতুন ও পুরাতন সকল ত্যাগী নেতাকর্মী আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিকে ঢেলে সাজাব। জেলা বিএনপিকে আর কাউকে পকেটে রাখতে দেয়া হবে না, তিনি চ্যালেন্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমিসহ আমরা যারা বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মী তারা প্রত্যকে আগামী সকল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা বিজয়ী হয়ে দেখিয়ে দেব তুমি কার কে তোমার। তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামি কুড়িগ্রাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। এজন্য আগাম প্রচারণার জন্য তিনি আজকের এই মত বিনিময় করেন। মতবিনিময় কালে জনাব জহুরুল আলম তার রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা কেমন কথা নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে গিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিতে প্রবীণ ও ত্যাগীনেতাদের মাইনাস করে দেয়া হয়েছে। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের ইতিকথা বলতে গিয়ে জানান, ১৯৭৭ সালে জাগোদলে যোগদান করি এরপর ১৯৭৮-১৯৮৬ সালের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সভাপতি, ১৯৮৬- ৮৯ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৮৯-৯২ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হই। ১৯৯৩- ১৯১৫ সালে জেলা বিএনপির সদর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ২০১৫- ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলাম। এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজে ১৯৯২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কুড়িগ্রাম ইউনিটের ডেলিগেট সদস্য ছিলাম। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি আমাদের মতো প্রবীণ ও ত্যাগীনেতাদের মাইনাস করে দিয়ে শুধুমাত্র টেন্ডারবাজি করার পথ পাকাপোক্ত করা হয়েছে। এতে কুড়িগ্রামবাসী মনে করছে বিগত আওয়ামী ফেসিস্ট সরকারের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সেটা হতে দেয়া যাবে না। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা কি খবর রেখেছেন ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর, কুড়িগ্রাম এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের শতকোটি টাকার টেন্ডারের কাজ কারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে- নিচ্ছে। এই ভাগবাটোয়ার কিছু অংশের টাকায় ডাল ভাত কেনার জন্য নগদ টাকা পেয়ে নব্য বিএনপির কিছু চামচা খুব লাফাচ্ছে। এতে বিএনপি দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমাদের হাতে গড়া বিএনপি আমরা ধূলিসাৎ হতে দেব না। এজন্য তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির বঞ্চিত সকল ত্যাগী নেতাকর্মীকে এক প্লাটফর্মে কাজ করার আহবান জানান। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
