ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৭ মে ২০২৬ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় লক্ষ লক্ষ নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা নিয়ে বিপাকে নার্সারী মালিকরা
মুস্তাক আহমেদ, পঞ্চগড়
প্রকাশ: Monday, 28 July, 2025, 9:39 PM

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় লক্ষ লক্ষ নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা নিয়ে বিপাকে নার্সারী মালিকরা

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় লক্ষ লক্ষ নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা নিয়ে বিপাকে নার্সারী মালিকরা

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের কোনা বালাপাড়া গ্রাম । পঞ্চগড়ের একমাত্র নার্সারী গ্রাম। যে গ্রামের প্রতিটি পরিবার নার্সারী ব্যবসার সাথে জড়িত । প্রায় ৫০ বছর ধরে এই গ্রামের মানুষ নার্সারী পেশা দিয়ে জীবন নির্বাহ করে আসছে। 

গত ১৫ মে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের বন-১ অধিশাখা কর্তৃক গৃহিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউক্যালিপটাস ও আশামণি গাছের চারা রোপন, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। 

এরপর থেকেই অনেকটা বিপাকে পরেছে নার্সারী গ্রামের শতাধিক নার্সারী মালিক। নার্সারী ব্যবসা করতে লাইসেন্স লাগে এমন কথা যারা ভুলতে বসেছিল আজ তারাই লাইসেন্স এর অভাবে লক্ষ লক্ষ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বিভিন্ন হাট বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা। সরকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যায়িত আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছের রোপণ, উত্তোলন বিক্রি নিষিদ্ধ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। থেমে নেই ইউক্যালিপটাস গাছের চারা বিক্রি ও রোপন। পরিবেশবিদরা বলছেন, ক্ষতিকর গাছের বিস্তার বন্ধে কেবল চারা ধ্বংস নয়, বাজার ও কৃষকের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করাও জরুরি।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের কোনা বালাপাড়া এলাকায় এখনো কয়েক শত একর জমিতে লক্ষ লক্ষ ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ ধব্বংস করতে পারেনি বোদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার ফলে ওই এলাকা থেকে এখনো ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা পঞ্চগড়ের আনাচে কানাচে বিভিন্ন হাটবাজারে  প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, বাজারে ও নার্সারীতে নেই কোন ধব্বংস করার উদ্দ্যোগ । ফলে পরিবেশ সংরক্ষণে নেওয়া সরকারের উদ্যোগ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ মাটির নিচের পানি অতিরিক্ত শোষণ করে, যা মাটির আর্দ্রতা হ্রাস করে এবং পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

এই কারণে সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি নার্সারিতে এসব গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি অনেক জায়গায় চারা ধ্বংস করে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবচিত্র ভিন্ন। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় এখনই গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এই সুযোগে জেলার খোলা বাজার ও হাটগুলোতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইউক্যালিপটাস চারা বিক্রেতারা।

জগদল, ভজনপুর , সিপাইপাড়া, পঞ্চগড়, টুনিরহাট, বুড়াবুড়ি বাজারসহ অসংখ্য হাটবাজারে  এই চারা গুলো দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।

কোনা বালাপাড়া এলাকার  মুনির হোসেন নার্সারি মালিক জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞার অনেক আগে থেকেই তারা চারা উৎপাদন করেছেন। এখন সেগুলো বিক্রি না করলে বড় লোকসানের মুখে পড়বেন। তিনি বলেন, আমরা সবাই প্রণোদনা পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই চারা বিক্রি করছি।

কোনা বালাপাড়ার শামিম হোসেন নার্সারী মালিক জানান, এই গ্রামের শতাধিক মানুষ নার্সারী করে। এই নার্সারীর একমাত্র আয়ের উৎস। এই নার্সারী ধব্বংস করে প্রনোদনা দেওয়া হবে এই ধরনের ম্যাসেজ আমাদেরকে এখানে কেউ বলেনি। ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকলেও তিনি আমাদের কিছু বলেনি। যার কারণে এখনো আমাদের গ্রামে শতাধিক একর জমিতে ইউক্যালিপটাস ও আকামনি গাছ রয়েছে। গাছ প্রতি প্রনোদনা দেওয়া হলে গাছ ধব্বংস করে দিব আমরা নিজেই।

গাছ কিনতে আসা জগদল বাজারের কাউসার হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেকেই জানেন না এই গাছের ক্ষতিকর দিক। আবার ইউক্যালিপটাস গাছ  দ্রুত বড় হয়, কম যত্ন লাগে এ জন্যই অনেকে এটা পছন্দ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি নার্সারি মালিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়, আর কৃষি বিভাগ যদি গ্রামে-গঞ্জে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়, তবে এমন ক্ষতিকর গাছের রোপণ বন্ধ হবে।

বড়শসি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আসাদ বলেন, আমি বহুবার তাদের বলেছি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য, তারা রেজিস্ট্রেশন করেনি। অনেকে আবার ভয়ে অফিসে যায়নি। যার কারণে এখনো শতাধিক বাগানে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের চারা আছে। ওই এলাকায় থেকে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস চারা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

বোদা উপজেলার কৃষি অফিসার আহমেদ রাশেদ উন নবী বলেন, প্রথম দিকে আমাদের কাছে একটা হিসাব চাইছে কত গুলো চারা আছে। একদিনের মধ্যে চারা সংখ্যা তো বলাও যায়না। সবাই শুরুর দিকে ভয়ও পাচ্ছিলো। অনেকে চারার বিষয় হাইট করছে। পরে যখন শুনলো গাছ প্রতি ক্ষতিপুরন প্রনোদনা দিবে, তখন অনেকেই বলেছে আমার আছে আমার আছে। যতদুর পারছি মিলাইঝিলাই দিছি। যে সমস্ত নার্সারী মালিকের এখনো গাছ আছে তারা আমাদের কাছে আসেনি। এখন তাদের গাছ গুলো ধ্বংস করতে হলে বিনা পয়সায় করতে হবে।

বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নাজির বলেন ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা ধংসের কাজ চলমান । আমরা প্রথম পর্যায়ে লাইসেন্সকৃত নার্সারী মালিকদের এসব চারা ধংস করে উৎপাদন খরচ বাবদ ৪ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি । লাইসেন্স বিহীন নার্সারী মালিকদের ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা ধংসের কাজ চলমান ।

 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status