ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
আমাদের বাংলাদেশের মানুষের তো একটু স্বভাব খারাপ, তারা বই নিয়ে ফেরত দেয় না: মেহের আফরোজ শাওন
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Sunday, 19 July, 2026, 4:07 PM

আমাদের বাংলাদেশের মানুষের তো একটু স্বভাব খারাপ, তারা বই নিয়ে ফেরত দেয় না: মেহের আফরোজ শাওন

আমাদের বাংলাদেশের মানুষের তো একটু স্বভাব খারাপ, তারা বই নিয়ে ফেরত দেয় না: মেহের আফরোজ শাওন

গাজীপুরের পিরোজালীর নিভৃত সবুজে ঘেরা নূহাশ পল্লী। চারপাশের গাছপালা, পাখির ডাক আর বাতাসের মৃদু শোঁ শোঁ শব্দ যেন আজ এক গভীর শোকগাথা শুনিয়ে যায়। বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রোববার সকাল থেকেই প্রিয় লেখককে স্মরণ করতে নূহাশ পল্লীতে ভিড় করেন ভক্ত, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। ফুল আর ভালোবাসায় ঢেকে যায় তার চিরনিদ্রার শয্যা।

দিনের শুরুতেই হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তারা প্রয়াত এই কিংবদন্তি লেখকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য পাঠক-ভক্তও প্রিয় লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমাধিতে ফুল অর্পণ করেন। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, অনেকের কণ্ঠে ছিল স্মৃতিচারণ। যেন হুমায়ূনের সৃষ্টি আজও মানুষকে টেনে আনে তার প্রিয় আশ্রয় নূহাশ পল্লীতে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিশুদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া মাহফিল এবং আগতদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন ছিল এ দিনের অন্যতম আকর্ষণ। শিশুদের নির্মল কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত পুরো পরিবেশকে আরও স্নিগ্ধ ও আবেগঘন করে তোলে।

সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ভক্তরা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ কেবল একজন লেখক নন, তিনি বাংলা ভাষার কোটি মানুষের অনুভূতির নাম। তার বই, তার চরিত্র আর তার গল্প আজও পাঠকের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছে।

এ সময় মেহের আফরোজ শাওন বলেন, নূহাশ পল্লীর লাইব্রেরি এখনো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। কারণ, বই সংরক্ষণ নিয়ে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাদের বাংলাদেশের মানুষের তো একটু স্বভাব খারাপ, তারা বই নিয়ে ফেরত দেয় না। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে নয়, পরিবারের উদ্যোগেই প্রতি বছর যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয় বলেও জানান তিনি।

চৌদ্দ বছর পেরিয়ে গেলেও নূহাশ পল্লীর প্রতিটি বৃক্ষ, প্রতিটি পথ আর প্রতিটি নিস্তব্ধতায় যেন আজও মিশে আছে হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ। তিনি নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি, তার দর্শন আর পাঠকের অফুরন্ত ভালোবাসা তাকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচিয়ে রাখে। সময়ের সীমানা পেরিয়ে তিনি আজও বাংলার পাঠকের হৃদয়ে এক অনন্ত আলোকবর্তিকা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status