|
চিকিৎসার নামে নির্মমতা: ৭ ইঞ্চির কাঁচি পেটে রেখেই সেলাই, মৃত্যুশয্যায় কোহিনুর
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
|
![]() চিকিৎসার নামে নির্মমতা: ৭ ইঞ্চির কাঁচি পেটে রেখেই সেলাই, মৃত্যুশয্যায় কোহিনুর বরগুনার কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে অপারেশনের সময় রোগীর পেটে সাত ইঞ্চি দীর্ঘ একটি কাঁচি রেখেই সেলাই করে দেওয়ার মতো অমানবিক অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। যার ভয়ানক পরিণতিতে খাদ্যনালীতে পচন ধরে আজ মৃত্যুশয্যায় ছটফট করছেন ৬০ বছর বয়সী কোহিনুর বেগম। বরগুনা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার স্বজনরা, দাবি করেছেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর বরগুনা শহরের কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে কোহিনুর বেগমের জরায়ুর অস্ত্রোপচার করা হয়। অপারেশনটি করেন গাইনী চিকিৎসক ডা. ফারহানা মাহফুজ এবং তাকে সহযোগিতা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাফিয়া পারভীন। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা বলেছিলেন “সফল হয়েছে”। কিন্তু সেই ‘সফলতা’র মুখোশ খুলে যায় সাত মাস পর। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কোহিনুরের পেটে রয়ে গেছে ৭ ইঞ্চি লম্বা একটি কাঁচি চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা হয় 'আর্টারি ফরসেপ'। ১৮ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কাঁচিটি অপসারণ করা হলেও ততদিনে কোহিনুরের শরীরের ভেতরে পচন ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যনালী কেটে ফেলতে হয় আংশিকভাবে। এখন তিনি পেটের বাইরের একটি ব্যাগের মাধ্যমে মলত্যাগে বাধ্য। কোহিনুরের জামাতা হুমায়ুন বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন আর কোনো রোগী এমন ভোগান্তির শিকার না হন, প্রশাসনের উচিত কড়া পদক্ষেপ নেয়া। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা চাই।’ কোহিনুরের মামা আব্দুল আওয়াল বলেন, এটা নিছক অবহেলা নয় ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা। যারা অপারেশন করে মানুষকে এমন অবস্থায় ফেলতে পারে, এটি নিছক ভুল নয়, এটি অপরাধ। আমরা এর বিচার চাই। কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মো. ফজলুল হক (মন্টু) বলেন, এ ঘটনার সকল দায়দায়িত্ব নিতে হবে চিকিৎসকদের। কারণ তারা অপারেশন করেছেন এবং তাদের গাফিলতির কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ফারহানা মাহফুজ ও ডা. সাফিয়া পারভীনকে হাসপাতালে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের নীরবতা আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বরগুনা কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালের অতীত ২০২৩ ফেব্রুয়ারিতে ভুল চিকিৎসায় তানজিলা আক্তার পুতুল (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। দায় এড়াতে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ ফেব্রুয়ারিতে বরগুনার কুয়েত প্রবাসী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহুবার ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই ক্লিনিকে। এছাড়া কয়েক বছর আগে এই ক্লিনিকে ভর্তি এক নবজাতককে চুরি করে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার। অপারেশনের কাঁচি কাণ্ড তো শুধু নতুন উদয়ের ঘটনা নয় বরং এটি এমন এক প্রতিষ্ঠানে ঘটে, যেখানে রয়েছে মৃত্যুর ঘটনা, তার পর তালাবদ্ধ অনুষ্ঠান, তারপর আবার চালু, আর তা প্রশাসনের চোখে ‘ভুলে’র মাখা নজরদারি। এতকিছুর পরেও বহাল তবিয়তে চলছে ক্লিনিকের কার্যক্রম। ভুল চিকিৎসায় আর যেন কোনো রোগীর মৃত্যু না হয়, সেজন্য এই ক্লিনিকটি বন্ধের দাবি জানায় সচেতন মহল। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়,তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
