ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৬ মে ২০২৬ ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
মানিকগঞ্জ সিংগাইরে ছাড়পত্র ছাড়াই টায়ার পোড়ানোর কারখানা
বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: Wednesday, 6 May, 2026, 2:11 PM

মানিকগঞ্জ সিংগাইরে ছাড়পত্র ছাড়াই টায়ার পোড়ানোর কারখানা

মানিকগঞ্জ সিংগাইরে ছাড়পত্র ছাড়াই টায়ার পোড়ানোর কারখানা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের একটি কারখানা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধল্লা মধ্যপাড়া এলাকায় ‘গ্রিন এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন করছে। কারখানায় উৎপাদিত তেল ‘কিং ওয়েল’ নামে বাজারজাত করা হয়। প্রতিদিন শত শত কেজি পরিত্যক্ত টায়ার পোড়ানো হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে বড় দুটি চুল্লিতে টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। চিমনি দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে আশপাশের পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ। প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।

স্থানীয়রা জানান, টায়ার পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করায় অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপ তৈরি হয়। এই ধোঁয়া ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ির ওপর পড়ছে। ফলে গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে, জমির উর্বরতা কমছে।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটি পরিচালনায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতা রয়েছে।
হাজী হাবিবুর রহমান বলেন, “রাত ৯টার পর পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া ও ত্বকের সমস্যা বেড়েছে। অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।”

বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, “এই কারখানার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “ধোঁয়ার কারণে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। ফসলের জমি পুড়ে যাচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

পরিবেশকর্মী আবু সায়েম বলেন, “কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নেই। বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্য সরাসরি পরিবেশে ছাড়া হচ্ছে।”

প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. তানজিল বলেন, “উত্তরবঙ্গের মোজাফফর হোসেন প্রায় এক বছর ধরে কারখানাটি চালাচ্ছেন। ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কাগজপত্র আছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এখনো নেওয়া হয়নি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের কারখানা চলতে পারে না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status