|
পলিসি এক্সচেঞ্জ'র আয়োজনে বাজেটের অগ্রাধিকার নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পলিসি এক্সচেঞ্জ'র আয়োজনে বাজেটের অগ্রাধিকার নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। সেসময় এনবিআর, বিডা, এফএমসিজি, তামাক, আরএমজি, কৃষি, টেলিকম, ফরেইন চেম্বারের বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং অর্থনীতিবিদ ও কর বিশ্লেষকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বক্তারা বলেন, এবারের জাতীয় বাজেট দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা দেশীয় সম্পদ সংগ্রহ জোরদার, অর্থ বরাদ্দে মূল বিবেচ্য বিষয়সমূহ পুনর্গঠন এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সম্পদের কার্যকর বণ্টন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আলোচনায় কৌশলগত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যাতে দেশে ব্যাপক পরিমাণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। বৈঠকে এনবিআর-এর ভ্যাট ইমপ্লিমেন্টেশন ও আইটি বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা হয়রানি কমাতে ও অনুমোদন ব্যবস্থা উন্নত করতে অটোমেশন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমাদেরকে অবৈধ বাণিজ্য সম্পর্কে যথাযথ তথ্য জানাতে হবে। আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতামূলক পদ্ধতি প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে। কর ব্যবস্থার কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এনবিআর-এর সাবেক সদস্য ও এনবিআর-এর সংশোধনী কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের করের ৮০ শতাংশই পরোক্ষভাবে আসে এবং এই সিস্টেমটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য উপযুক্ত নয়। পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন না করে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। উচ্চ টিডিএস ও বহুস্তর ভ্যাট হারের মতো সমস্যা দূর করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অপরিহার্য। আমি একটি ন্যায়সঙ্গত কর ব্যবস্থা গঠনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানাচ্ছি। বিডা’র ডিরেক্টর জেনারেল মোঃ আরিফুল হক বলেন, রাজস্ব ও বিনিয়োগ একই মুদ্রার দুটি দিক। আমরা অটোমেশনের পাশাপাশি নীতিমালা যেন সংগতিপূর্ণ হয় সে জন্য চাপ দিচ্ছি, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার রূপান্তরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি, শক্তি ও কর নীতিমালা একত্রিত করে সংস্কার করতে হবে এবং নীতি সংস্কারে একটি সামগ্রিক পদ্ধতি প্রয়োজন। জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ও কমিউনিকেশন বিভাগের ডিরেক্টর গিনতাউতাস দিরগেলা বলেন, এবছর জানুয়ারিতে অফ-সাইকেল কর বৃদ্ধির পর কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। একটি দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করি, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পুনরায় শক্তিশালী করতে ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে। আমরা ধারাবাহিক কর বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনগুলো শেয়ার করেছি, যা কালোবাজারের সুযোগ বৃদ্ধি না করেই রাজস্ব বৃদ্ধি করবে। তামাক খাত থেকে আগত রাজস্বকে সময়ের সাথে সাথে দৃঢ়, পূর্বানুমানযোগ্য এবং টেকসই বা স্থিতিশীল হতে হবে। খাত-নির্দিষ্ট ঝুঁকি ইঙ্গিত করে ডিবিএল গ্রুপ-এর চিফ সাস্টেইনেবিলিটি অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ বলেন, পোশাক শিল্প জ্বালানি সংকট ও কার্বন কর থেকে অস্তিত্বগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তি অংশীদারিত্ব ও পরিবেশ-বান্ধব কারখানার জন্য কর প্রণোদনা ব্যতীত অর্ডারগুলো ভিয়েতনাম বা ভারতে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। গ্রামীণফোন লিমিটেড-এর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর হোসেন সাদাত বলেন, একজন ভোক্তা ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ৩৯ টাকা কর দেয়, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই খাতের প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব স্থিতিশীলতার জন্য ভ্যাট ও এসডি যুক্তিসঙ্গত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ কর নীতি চালু করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। নেসলে বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ম্যানেজার ও হেড অব ট্যাক্সেশন রেজাউল করিম বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ভোক্তা চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। ভ্যাট রিটার্ন সহজকরণ ও কর্পোরেট করের হার কমিয়ে আনলে তা ব্যবসার খরচ কমাতে, ভোক্তার ব্যয় উৎসাহিত করতে এবং রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-এর (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, বিগত দশক ধরে আমরা কম-কর নেট, পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করে আসছি। সাহসী সংস্কার ছাড়া আমাদের আর্থিক ঘাটতি বেসরকারি বিনিয়োগকে ক্রমাগতভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। এসএমএসি-এর ম্যানেজিং পার্টনার স্নেহাশিস বড়ূয়া বলেন, এসএমই ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে একই কর-কোড প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। আমাদের পৃথক এসএমই কর ব্যবস্থা এবং কম টিডিএস হার প্রয়োজন, যাতে কমপ্লায়েন্ট করদাতাদের শাস্তি দেওয়া বন্ধ করা যায়। এফআইসিসিআই-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টি.আই.এম. নূরুল কবির বলেন, বিনিয়োগকারীদের অনুমানযোগ্যতা প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক লক্ষ্য দ্বারা নয়, বরং প্রভাব মূল্যায়ন করে বাজেটগুলো পরিচালিত হতে হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশ অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে পারে না। আমরা চাই সঙ্গত ও সঠিক তথ্যভিত্তিক নীতি চালু হোক। ড. এম. মাসরুর রিয়াজ-এর সংক্ষিপ্তসার দিয়ে গোলটেবিল বৈঠকটি শেষ হয়। তিনি বলেন, এই সংলাপের মাধ্যমে নতুন দিনের সূচনা হচ্ছে। আমরা এনবিআর ও বিডা’র জন্য প্রস্তাবনাগুলো সংকলন করবো এবং আজকের আলোচ্য বিষয়গুলো ২০২৫-২৬ বাজেটে উত্থাপিত করার চেষ্টা করবো। তিনি গোলটেবিলের অন্তর্দৃষ্টিগুলোকে কার্যকর নীতি সুপারিশে অনুবাদ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান, ২টি এস্কেভেটর অকেজো
প্রবাসীদের জন্য দেশে প্রথম অনলাইন গণশুনানি: চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদের মাইলফলক উদ্যোগ
বেইলি ব্রিজের পাটাতন ধসে ট্রাক আটকা, বিচ্ছিন্ন দীঘিনালা–মাইনি সড়ক যোগাযোগ
দর্শনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিককে মারধরে প্রতিবাদে দামুড়হুদা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা
