|
পেটের তাগিদে দিবস তাদের কাছে তুচ্ছ!
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() পেটের তাগিদে দিবস তাদের কাছে তুচ্ছ! শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর, ফকিরাপুল, বাড্ডা, রামপুরা ও নতুন বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে জড়ো হয়েছেন। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে হাতুড়ি বা ঝুড়ি—কাজের আশায় অপেক্ষা করছেন তারা। মিরপুর ১ নম্বর মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে প্রতিদিনের মতো সকাল সাতটার পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। আটটার মধ্যে শতাধিক শ্রমিক জড়ো হন। রাজমিস্ত্রি, জোগালি, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও সাধারণ দিনমজুররা কাজের অপেক্ষায় থাকলেও সবার ভাগ্যে কাজ জোটে না। রংমিস্ত্রি কামাল মিয়া বলেন, শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু কাজ বাড়েনি। ফলে দুই-তিন দিন অপেক্ষা করে একদিন কাজ পাওয়া এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ফকিরাপুল পানির ট্যাংকের পাশেও একই চিত্র। প্রতিদিন ৩০০–৪০০ শ্রমিক এখানে জড়ো হন। তবে সপ্তাহে তিন-চার দিন বেকার থাকতে হচ্ছে অধিকাংশকেই। কেউ কেউ টানা এক সপ্তাহও কাজ পাচ্ছেন না। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা দিনমজুর আল আমিন জানান, প্রতিদিন ভোরে এসে দাঁড়ালেও অনেক দিন কাজ পান না। মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি আয় হয় না, অথচ সংসারের খরচ ১৬–১৮ হাজার টাকা। ফলে ধার-দেনা করেই চলতে হচ্ছে। টাইলস মিস্ত্রি সোহাগ মিয়া বলেন, নির্মাণকাজে মন্দার কারণে তাদের কাজ কমে গেছে। বাধ্য হয়ে পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি এখন ঢাকায় মেসে থাকেন। কাজ পেলেই টাকা পাঠান, না হলে খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। নারী শ্রমিকদের অবস্থাও ভিন্ন নয়। মিরপুর এলাকায় প্রতিদিন ৩০–৪০ জন নারী শ্রমিক কাজের আশায় আসেন। জামিলা খাতুন জানান, সপ্তাহে দুই-তিন দিন কাজ পান। মাসে সাত-আট হাজার টাকার বেশি আয় হয় না, যা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। বাড্ডা এলাকায় হোসেন মিয়া নামে এক শ্রমিক জানান, টানা কয়েক দিন বেকার থাকার পর কাজ পাওয়া যায়। তবে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। এদিকে বৃষ্টির মধ্যেও সকাল থেকে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বিভিন্ন এলাকায় কাজের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা জানান, কাজ না পেলে সেদিনের খাবার জোটে না। শ্রমবাজারে মজুরিও নির্ভর করছে দরকষাকষির ওপর। সকালে যেখানে ৪০০–৬০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে ৩০০ টাকায় নেমে আসে। তাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য বাড়লেও আয় বাড়েনি। বরং কাজ কমে যাওয়ায় আয় আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্মাণ খাতে মন্দা, গ্রাম থেকে শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অটোরিকশার কারণে ভ্যানচালকদের আয় কমে যাওয়াসহ নানা কারণে তারা চাপে রয়েছেন। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলনের স্মরণে পালিত মে দিবস শ্রমিক অধিকারের প্রতীক হলেও বাস্তবে দেশের অনেক দিনমজুরের কাছে এটি অন্য দিনের মতোই সংগ্রামের দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ নভেম্বরের চেতনা মূল প্রেরণা: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ও আদর্শে ইবিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য
দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি আচ্চু, সাধারণ সম্পাদক তামিম
সশস্ত্র সংঘাত ও লাগাতার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক বাড়ছে জনদুর্ভোগ
ময়মনসিংহে আওয়ামী সন্ত্রাসী শাহীনের মটর ঘর থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার! নেপথ্যে কারা?
ভূরুঙ্গামারীতে ব্র্যাকের যৌথ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, বিনা মূল্যে মিলেছে নানা সেবা
