কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালুর পর কিছুদিন স্বাভাবিক থাকলেও নাব্যতা সংকটের অজুহাতে বেশিরভাগ সময় বন্ধই থাকছে ফেরি চলাচল। ফলে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, নদী ড্রেজিংয়ে গাফিলতি ও নৌকার মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
নাব্যতা সংকট ও ড্রেজিংয়ে অনিয়ম
ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং কার্যক্রম চালানোর কথা বললেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ’র গাফিলতি ও নৌকার মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশের ফলে ধীরগতিতে চলছে খননকাজ।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, “আমাদের ৫টি ড্রেজারের মধ্যে তিনটি দিয়ে খননকাজ চলছে। কিন্তু একদিকে খনন করলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।” তবে কবে নাগাদ ফেরি চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
ফেরি বন্ধ, লোকসানে সরকার
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হলেও নাব্যতা সংকটের কারণে তা নিয়মিত চলতে পারেনি। সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনো চালু হয়নি। এতে করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) প্রতি মাসে প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুনছে।
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান বলেন, “ফেরি কদম ও কুঞ্জলতা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পরিবহন ও যাত্রীদের বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত ফেরি চালু করতে পারলে এ সমস্যার সমাধান হবে।”
নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি
নৌরুট বন্ধ থাকায় দুই পারের মানুষদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় পার হতে হচ্ছে। যানবাহন চালকদেরও ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একজন ট্রাকচালক জানান, “নেভিগেশন বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর আর ফেরি চলে না। গত বছর বন্যার সময় বাতিগুলো তুলে নেওয়া হলেও পরে আর লাগানো হয়নি। ফলে রাতে পারাপারের সুযোগ না থাকায় দিনের বেলাতেও ঘাটে প্রচণ্ড ভিড় হয়।”
সমাধানের পথ কী?
নাব্যতা সংকট দূর করতে হলে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়মিত ও কার্যকরী ড্রেজিং নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, উভয় ঘাটে লো-ওয়াটার ঘাট ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, নেভিগেশন বাতি স্থাপনসহ ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা মনে করেন, দ্রুত ফেরি সার্ভিস সচল করা গেলে চিলমারী-রৌমারী নৌপথের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।