মিয়ানমারের চলমান সংঘাত ও সহিংসতায় জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বাসের মধ্যেই সফলভাবে সন্তান প্রসব করালেন উখিয়ার বালুখালীতে অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের মিডওয়াইফেরা। চলন্ত বাসে সন্তান প্রসবকারী ঐ রোহিঙ্গা নারীর নাম তমশিদা (৩০)।
গত সোমবার রাত ৮ টা ৫০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালীস্থ বেসরকারি সংস্থা এনজিও 'ফ্রেন্ডশিপ' পরিচালিত হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সন্তান জন্মদানকারী নারীর স্বামী রশিদ জানায়, সম্প্রতি মিয়ানমারে চলমান সংঘাত চলাকালে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে গত ২০ অক্টোবর রবিবার রাতে বিজিবির হাতে আটক হয় তার স্ত্রী তমশিদা।
বিজিবি হেফাজতে থাকাকালীন সোমবার রোগীর প্রসব বেদনা শুরু হলে ক্যাম্প-১৩ তে আগে থেকে আশ্রিত থাকা তমশিদার বোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিজিবির কাছে উপস্থাপন করেন।বিজিবি বিষয়টি মানবিক বিবেচনা করে অন্তঃসত্ত্বা নারীটিকে ছেড়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থাগ্রহণ করেন। পরে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন।
রোহিঙ্গা অন্তঃসত্ত্বা নারীর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তার বোন বাসে করে রোগীকে বালুখালী ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের দিকে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই তমশিদার শারীরিক পরিস্থিতি এতোটাই বেগতিক ছিল যে রোগীকে হাসপাতালে প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা দেয়া মোটেও অনুকূলে ছিল না।
বাসটি হাসপাতালে গেইটে পৌঁছানোর মুহূর্তের মধ্যে গাড়িতে চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরী তাৎক্ষণিক বিষয়টি দায়িত্বরত মিডওয়াইফদের অবগত করের। মিডওয়াইফ যাদবী, মৌসুমি, চন্দনা ও শোভা'র সহযোগিতায় রাত ৮ টা ৫০ মিনিটে বাসের মধ্যেই নারীটি স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করায়।
মিডওয়াইফ মৌসুমি জানান, বাসের ওপর এক নারী প্রস্রব বেদনায় কষ্ট পাচ্ছে জানতে পেরে আমরা দ্রুত বাসে গিয়ে ওই নারীর সন্তান প্রসব করানো হয়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে বাকী স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালে নিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা ফ্রেন্ডশিপের এমন ভালো কর্মের সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তমশিদার স্বামী রশিদ জানান, ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের কর্মীরা তাৎক্ষণিক সেবা দিতে এগিয়ে না আসলে তার স্ত্রী ও সন্তান দুজনকেই বাঁচানো কঠিন হতো, তিনি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।