|
পাথরঘাটায় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৩১ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
ইব্রাহীম খলীল, পাথরঘাটা
|
![]() পাথরঘাটায় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৩১ লক্ষ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার নাচনাপাড়া বাজারে এক লিখিত সংবাদ সম্মেলনে বজলু শিকদার এ অভিযোগ করেন। এসময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি সহ বাজারে প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। লিখিত সংবাদ সম্মেলনে বজলু শিকদার বলেন,আমি নাচনাপাড়া বাজারের একজন পাইকারী মুদি ব্যবসায়ী। আমার দোকানে আমার আপন সম্বন্ধী ও তার ছেলে দীর্ঘ দিন যাবত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছে। আমার স্ত্রী মোসাঃ নাসিমা বেগম শারিরীকভাবে অসুস্থ হলে আমার সম্বন্ধী শাজাহান ও তার ছেলে সোহেলকে দোকান ও বাসায় রেখে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং তারিখ বরিশাল চিকিৎসার জন্য যাই। এই ফাঁকে আমার দোকান ও বাসা একত্রে থাকায় সেখান থেকে আমার অবর্তমানে সুকৌশলে দোকানের মুদি-মনোহরী ও বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নগদ অর্থসহ সর্বোমোট ৩১ লক্ষ টাকার অধিক মালামাল দোকান থেকে লুট করে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসে মালামাল না দেখে আমার সম্বন্ধী শাজাহানের কাছে জানতে চাইলে উল্টো তার ছেলেকে খুজে পায় না বলে আমার বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় মৌখিক অভিযোগ দায়ের করে। এর পরের দিন আমার মেয়ে সাবিনা আক্তার সাথী শাজাহান (তার মামা) বাড়ী যায় এবং তাদের ঘরে আমার দোকানের মালামাল দেখতে পায়। সে তাৎক্ষনিক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে আমার মেয়ের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করে মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে এবং আমার মেয়েকে রুমে আটকে রেখে মারধর করে আমার মেয়ে কৌশলে জীবন নিয়ে কোন মতে ফিরে আসে। এর পরের দিন আমার স্ত্রী ও মেয়ে আত্মীয় স্বজন নিয়ে পুনরায় তাদের বাড়িতে গেলে তাদের বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কিছুদিন পরে শাজাহানের ছেলে সোহেল বাড়িতে ফিরে আসলে মালামালের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার মামা বিষয়টি স্বীকার করে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেয়। কিন্তু তারা শালিসে না বসে উল্টো তার মামা আমাকে প্রাননাশের হুমকি দিলে আমি তাৎক্ষনিক পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। পূনরায় তাহারা শালিস বৈঠকের তারিখ দেয়। শালিসিতে না বসে বিবাদীদ্বয় পালিয়ে যায়। আমি বিবাদীদ্বয়ের সাথে আমার সকল নিকট আত্মীয়, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে আপোষ মীমাংসায় ব্যার্থ হইয়া বিবাদীদ্বয়ের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪, পাথরঘাটা, বরগুনায় ০১/১০/২০২৩ইং তারিখে সি,আর মামলা নং-৭৫৭/২০২৩ (পাথরঘাটা) দায়ের করি। তবে তারা আমার ও আমার স্ত্রী,কন্যার স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করিয়া লেখন বিহীন একটি ভূয়া ভিত্তিহীন ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকার প্রতিবশত চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করিয়া আদালত থেকে জামিন নেয়। পরবর্তীতে আমি ভূয়া প্রতিবশত চুক্তিপত্রের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাথরঘাটা, বরগুনায় সি, আর মামলা নং- ১৬/২০২৪, তারিখঃ ১১/০১/২০২৪,দায়ের করিলে বিজ্ঞ আদালত সদয় হয়ে মামলাটি ডিবি, ওসি, বরগুনাকে তদন্তের জন্য আদেশ প্রদান করেন। বর্তমানে আমার জীবন হুমকির মুখে, আপনাদের মাধ্যমে, মহামান্য আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আমার টাকা পয়সা ফিরে পেতে সহায়তা করবেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় মোঃ ছালেক ঘরামী, আবুল কালাম, মোঃ হালিম খলিফা ও মোঃ মসিউর রহমান (নাজু) সহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, নাচনাপাড়া বাজারে বজলুর রহমান সিকদার একজন জন ভালো পাইকারি ব্যবসায়ী। তার দোকানে তার সম্বন্ধী শাজাহান ও তার ছেলে সোহেল দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত ছিল,যা বাজারের সকলেই দেখেছে। তবে সোহেল সবসময় থাকতো, শাজাহান মাঝে মাঝে আসতো। মুদি ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, বজলুর রহমান সিকদারের স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় বরিশালে চিকিৎসায় বেশ কয়েকদিন তিনি দোকানে ছিল না। শুনেছি সেই ফাঁকে তার দোকানের মালামাল ও টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে গেছে। বিষয়টি দুঃখজনক! দোকানের কর্মচারী আপন সম্বন্ধী এমন কাজ করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা ব্যবসায়ীরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার টাকা ও মালামাল ফিরে পাওয়ার দাবী জানাই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শাজাহান ও তার ছেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কখনো বজলু শিকদারের দোকানের কর্মচারী ছিলাম না। এটি মিথ্যা অভিযোগ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
