|
এমপি সুলতানা নাদিরার হস্তক্ষেপে বনদস্যুদের দখলি জমি উদ্ধার ও আদালতে মামলা
ইব্রাহীম খলীল, পাথরঘাটা
|
![]() এমপি সুলতানা নাদিরার হস্তক্ষেপে বনদস্যুদের দখলি জমি উদ্ধার ও আদালতে মামলা হরিণঘাটা বনটি বঙ্গোপসাগরের কিনারায় বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রায় ৩০ হাজার একর জায়গা জুড়ে ঘিরে আছে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন। এই বনে রয়েছে সুন্দরি, পশুর, গেওয়া, বাইন, ঝাউ, কেওড়া, ছইলা সহ নানা প্রজাতির উঁচু উঁচু গাছ। হরিণ, শুকর, বানর, কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর বিচন্ন স্থল এই হরিণঘাটার ম্যানগ্রোভ বনে। হরিণঘাটাকে এক কথায় বলা যায় সুন্দরবনের একটি অংশ। জানা যায়, ২০১৩ সালে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হরিণঘাটা ম্যানগ্রোভ বনের বন উজাড় করে জমি দখলে মেতে ওঠে কিছু ভূমিদস্যু ও বনদস্যুরা। তখন ৩৫ টি পরিবার প্রায় ৯ একর সংরক্ষিত বন উজাড় করে জমি দখল করে এবং বসতবাড়ি নির্মাণ করে। বন বিভাগ ওই সকল ভূমিদস্যু দখলদারদের বিরুদ্ধে দায়সারা ১২ টি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত দখলদারদের উচ্ছেদ করতে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্রমশই তাদের সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় শতাধিক পরিবার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় পুনরায় গত ১১ জানুয়ারি দখলদাররা বনের গাছ কেটে বনের জমি দখল করতে মেতে ওঠে। এই বন দখলের নেপথ্য রয়েছে বন বিভাগের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তারা। যাদের যোগসাজশে দখল হচ্ছে একে পর এক জমি অভিযোগ স্থানীয় সাধারণ মানুষের। জমি দখল ও বন উজাড় নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ ও ভিডিও প্রকাশিত হলে এমপি সুলতানা নাদিরা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খানকে দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধারসহ দোষিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। পাথরঘাটা উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দখলকৃত জমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত সমন জারি করেছে। এছাড়াও আরো একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা হলেন, মনির পিতা চান মিয়া, দেলোয়ার হাওলাদার পিতা ওয়ারেচ আলী, সুলতান গাজী পিতা আহাম্মদ আলী গাজী। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের জনবল কম থাকার কারণে সব সময় বনে টহল জোরদার করা যাচ্ছে না। জমি দখলের সাথে বন বিভাগের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয় এমপি সুলতানা নাদিরা বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় বনের গাছ কেটে জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির চেষ্টা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি দেখা মাত্রই তাৎক্ষণিক বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বনের গাছ কেটে জমি দখলকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও দখলকৃত জমি উদ্ধারের নির্দেশ দেই । তিনি আরও বলেন, হরিণঘাটা ম্যানগ্রোভ বনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলচ্ছাসসহ নানা ধরনের দুর্যোগের মোকাবেলা করে উপকূলীয় মানুষদের রক্ষা করে। সেই বনেরই গাছ কেটে জমি দখল করে পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলা যারা, তারা যতবড় ক্ষমতার অধিকারী হোকনা কেনো তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তা
চরভদ্রাসন থানায় নবাগত ওসি হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ সফর আলী
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
