|
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছদ্মবেশে জংগিরা, টার্গেট মেধাবী তরুণ-তরুণীদের!
বিপ্লব বিশ্বাস
|
![]() সোশ্যাল মিডিয়ায় ছদ্মবেশে জংগিরা, টার্গেট মেধাবী তরুণ-তরুণীদের! এ ব্যপারে সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা ঘটিয়েছিল জেএমবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সংগঠনটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, অতীতে যারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত ছিল, তারাই নতুন নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। র্যাবের মূল ম্যান্ডেড হলো-জঙ্গি আটক। আমরা সেভাবে নিয়ে কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, জামা’য়াতুল মোজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি), আনসার আল ইসলামসহ পুরাতন বিভিন্ন সংগঠনের জঙ্গিরা নতুন নামে তৎপরতা চালাচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে তারা নতুন সদস্য সংগ্রহে তৎপর রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের উগ্রবাদের পথে নিয়ে যাচ্ছে। কখনও কখনও ছদ্মবেশে মানুষকে উগ্রবাদে আকৃষ্ট করছে জঙ্গিরা। গাইবান্ধা ও মাদারীপুরের দুই মেধাবী তরুণ চীনের ইয়াংজু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করে দেশটিতেই থাকতেন। এরই মধ্যে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র অন্যতম সদস্য ডা. সোহেল তানজিমের সঙ্গে রাহাত মন্ডল (২৪) ও মেহেদী হাসান মুন্নার (২৩) পরিচয় হয়। দুজনেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে চীন থেকে দেশে ফিরে তারা বিমানবন্দর থেকেই মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় চলে যান। সেখানে তারা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) হাতে ধরা পড়েন। দুই মাস আগে ডা. সোহেল তানজিমের সঙ্গে নাটোরের তরুণী মাইসা ইসলাম ওরফে হাফসার বিয়ে হয়। স্বামীর হাত ধরে হাফসা জড়িয়ে পড়েন জঙ্গিবাদে। সিটিটিসির হাতে তিনিও গ্রেফতার হয়েছেন। সিটিটিসি জানায়, জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ একেবারে নতুন। গ্রেফতাররা অন্য কোনো সংগঠনের দলছোট কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গৃহ শিক্ষকের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন ছেলে আবু বক্কর ও মা ক্রেবিন ক্রু আম্বিয়া সুলতানা ওরফে এমিলি। পরে র্যাবের মাধ্যমে মা এমিলি স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও ছেলে ছিল অধরা। অবশেষে মায়ের অনুরোধে ছেলে আবু বক্কর জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসে। সম্প্রতি বক্করসহ চারজন র্যাবের হাতে আত্মসমর্পণ করেছে। গত বছরের ২৩ আগস্ট কুমিল্লা থেকে আট তরুণ নিখোঁজ হয়। তাদের সন্ধানে নেমে র্যাব নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামা’য়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া’র তথ্য পায়। অভিযান চালিয়ে র্যাব শারক্বীয়ার আমির আনিসুর রহমান মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৮২ জন জঙ্গি এবং কেএনফের ১৭ জনকে গ্রেফতার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড করার কোনো সামর্থ্য জঙ্গিদের নেই। এ কারণে তারা তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিচ্ছে। সাইবার স্পেসে তারা প্রচার-প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে ২৪/৭ ঘণ্টা সাইবার স্পেসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকায় তারা এখানেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছে না। জানা যায়, জঙ্গিদের বেশ কিছু এক্সপার্ট গ্রুপ অনলাইনে দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয়। তারা আইটি বিষয়ে বেশ পারদর্শী। ইন্টারনেটে বিভিন্ন নামে ওয়েবসাইট-ব্লগ খুলে এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ, প্রাইভেট গ্রুপ খুলে প্রচারণা চালায়। তাদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে জঙ্গিবাদী কনটেন্ট দেওয়া হচ্ছে। নিত্যনতুন অ্যাপ ব্যবহার করে তারা উগ্রবাদি প্রচার চালাচ্ছে। এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যারা কর্মী-সমর্থক সংগ্রহের চেষ্টা করছে অনলাইন পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আড়াই শতাধিক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
