কক্সবাজার বেড়াতে এসে ছেলে ও নিজেকে মারধর ও হুমকির অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিডি করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় আরজে কিবরিয়া। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি এই জিডি করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আরজে কিবরিয়া স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসে পর্যটন এলাকার হোটেল সাইমনের একটি কক্ষে ওঠেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আরজে কিবরিয়ার স্ত্রী রাফিয়া লোরা সন্তানকে মারধর করেন।
ওসি বলেন, আরজে কিবরিয়া বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করেন তার স্ত্রী। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে আরজে কিবরিয়া বাদী হয়ে তার স্ত্রী রাফিয়া লোরার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করেন।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এর সূত্র ধরেই এ ঘটনাটি ঘটেছে।
এ বিষয়ে জানতে আরজে কিবরিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভড না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরজে কিবরিয়ার পুরো নাম মো. গোলাম কিবরিয়া সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে রেডিও জকি (আরজে) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। টানা ১৬ বছর রেডিওতে কাজ করেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে।
শুরুর দিকে ২০০৬ সালে রেডিও টুডেতে ‘কথা বন্ধু’ এপিসোডে কাজ শুরু করেন। এরপর একে একে জীবনের গল্প, সিক্রেটস, হ্যালো ৮৯২০, যাহা বলিব সত্য বলিব, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডসহ বেশ কয়েকটি জীবনধর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেছেন। শুদ্ধ ও সাবলীল বাচনভঙ্গি, জীবনঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠান হওয়া আর চমৎকার উপস্থাপনের কারণে অল্প সময়েই প্রতিটি অনুষ্ঠানই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আরজে কিবরিয়া। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো―
‘প্রিয় পরিচিতজন আমার জ্ঞানত আমি কোনো দিন আমার পারিবারিক বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোচনা সমালোচনা হয় এমন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলিনি । আমি বলতেও চাই না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার স্ত্রী। আমি কম বেশি সোশ্যাল মিডিয়ার নেগেটিভিটি ফেস করা মানুষ। আমি জানি একটা সংবাদ যাচাই-বাছাই না করে অনলাইনে ছাড়া যায়। ঘটনা পুরাই উল্টে দেওয়া যায়। কাউকে নিয়ে পাবিলিকলি বাজে কথা বলার আমি পক্ষে না। আমি জানি আমার চিরশত্রু বলে যদি কেউ থেকে থেকে তো সে প্রথম এবং একমাত্র টার্গেট করবে আমার চরিত্র এবং পাবলিক ইমেজ। আমি সেটাতে বিন্দুমাত্র ভয় পাই না। আমি ক্ষমা করতে ভালোবাসি। আমার সন্তানদের ক্ষতি যেমন আমি কোনো দিন মেনে নিব না, ঠিক একইভাবে আপনাদের এই ভুলভাল নিউজ তাদের ফিউচারের জন্য কোনো ক্ষতি হোক সেটাও আমি চাই না। প্লিজ। আমি আমার কাছে সৎ এবং কারো প্রতি কোনো অন্যায় করিনি। যারা আমাকে ভালোবাসেন তারা আস্থা রাখুন। দোয়া করবেন।’