গাজীপুরের কালিয়াকৈর বর্মণ সম্প্রদায়ের এক কিশোরীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে এক তরুণের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের প্রায় আড়াই মাস আগের। তবে এতদিন অজানা ছিল। কিশোরীর মা বাদী হয়ে ঘটনার চার দিন পর কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রতিবেশীরা জানান, ওই কিশোরী তরুণ চন্দ্র বর্মণ নামের এক তরুণের সঙ্গে খারাপ কাজ করেছেন অপবাদ দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বর তাঁদের মারধর করে বিয়ে দেন। ওই ইউপি সদস্য কিশোরীর চুলের মুষ্ঠি ধরে পেটাচ্ছেন- এমন একটি ভিডিও গত শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিশোরীটি ফুলবাড়িয়া এলাকার একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে তাঁর বাবা জানান। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, শিমুলিয়া গ্রামে গত ২৬ মে ওই কিশোরীর বাড়িতে একই এলাকার হবুরচালা গ্রামের তরুণ চন্দ্র বর্মণ বেড়াতে যায়। ওই সময় শিক্ষার্থী তাঁর দাদির সঙ্গে ঘরে বসে গল্প করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে তরুণ বর্মণ বসে গল্পগুজব শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগীদের নিয়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে যায়। তিনি কিশোরী ও ছেলেটির মধ্যে খারাপ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করেন। পরে পরিবারের অমতে জোর করে তাঁদের বিয়ে পড়িয়ে দেন।
কিশোরীর বাবা জানান, বাড়িতে ঝামেলার কথা শুনে কাজ থেকে দ্রুত বাড়িতে এসে জানতে পারেন মেম্বার তাঁর মেয়েকে মারধর করে পাশের গ্রামের তরুণ বর্মণের সঙ্গে জোর করে বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনার দুই দিন পর থেকে ওই ছেলের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মেয়েটিও নাবালিকাও। বিয়ের কোনো ডকুমেন্ট দেননি মেম্বার।
তিনি বলেন, 'আমরা গরিব, কারও বিরুদ্ধে কথা বলব বা বিচার চাইব, সেই সাহসও পাই না।' এ কথা বলে কাঁদতে শুরু করেন কিশোরীর বাবা।
ফুটেজে দেখা গেছে, 'এসব কাজ কবে থেকে শুরু করেছিস? আরও করবি?' এরকম কথা বলে ছেলের পাশে খাটের ওপর বসে থাকা মেয়েটির চুলের মুষ্ঠি ধরে লাঠি দিয়ে একের পর আঘাত করছেন জাহাঙ্গীর আলম। চড়-থাপ্পড়ও দিচ্ছেন। মেয়েটি খাট থেকে পড়ে গেলে সেখান থেকে চুল ধরে টেনে তুলে আবার পেটাচ্ছেন।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তারা খারাপ কাজ করছিল অভিযোগ পেয়েই তিনি তাদের বিচার করেছেন। আর বিচার করলে তো একটু চড়-থাপ্পড় দিতেই হয়। বিষয়টি সমাধান করার জন্য তাদের মধ্যে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তরুণ বর্মণের চাচাতো বোন মনিষা চন্দ্র বর্মণ জানান, ঘটনার একদিন পর থেকে তাঁর ভাই নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি করছেন। কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মোল্লা জানান, ঘটনার কিছুদিন পর তরুণ চন্দ্র বর্মণের বিরুদ্ধে কিশোরীর মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।