জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জুঁই আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জুঁই আক্তারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মেলান্দহ থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জুঁই ওই এলাকার আহালু মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনার পর থেকে সবুজ ও তার বাবা আসালু মিয়া পলাতক রয়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের আমডাঙ্গা নতুনবাড়ী এলাকা থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।
বাবা জয়নাল আবেদীন জানান, আড়াই বছর আগে সবুজ মিয়ার সঙ্গে তার মেয়ে জুঁই আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ৮ মাস বয়সের কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া-বিবাদ হতো। সোমবার তাদের মধ্যেও ঝগড়া হয়।
তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে সবুজ প্রায় সময় মারধর করতো। বিয়ে পর অনেকবার সালিশ হয়েছে। সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে আমাকে বলে মারামারি হয়েছে। যাওয়ার মাঝপথেই ফোন দিয়ে বলে মারা গেছে। আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে সবুজ। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এ ঘটনায় সবুজের মা সালামা বেগম বলেন, আমি সারা দিন ধানখেতে ছিলাম। দিনে তাদের মধ্যে কী হয়েছে জানি না। কখন যেন জুঁই দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ে। রাতে গিয়ে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাক দিলে সাড়াশব্দ না করলে বড় ঘরের মাচার নিচ দিয়ে গিয়ে দেখি ফাঁসি দিয়েছে। পরে আমি চিৎকার দিলে লোকজন এসে ফাঁসি থেকে নামায়।
মেলান্দহ থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, মৃতের গলায় লম্বা দাগ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জুঁই আক্তারের বাবা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে হত্যা, নাকি আত্মহত্যা।