সন্তানের হার্টের চিকিৎসার টাকা জোগাড়ে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 25 December, 2021, 6:50 PM
সন্তানের হার্টের চিকিৎসার টাকা জোগাড়ে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছি
‘আটমাস বয়সী বাচ্চাটির হার্টে ছিদ্র রয়েছে। তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কোথাও কোনো উপায় না দেখে অসুস্থ বাচ্চার চিকিৎসার টাকা জোগাড়ে স্বামীসহ কক্সবাজার এসেছি। এখানে গত তিনমাস ধরে অবস্থান করছি। টাকা জোগাড়ে যখন যেখানে ডাক পেয়েছি গেছি। এসময়ে সন্ত্রাসীদের খপ্পরে পড়ে চাঁদাবাজির শিকার হই। বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদাও দিয়েছি। পরে আবার চাঁদা চাইলে স্বামীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর সূত্র ধরে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে।’
আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন, সন্তান বাঁচানোর জন্য টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ওই নারী দেহ ব্যবসায় জড়ান বলে আদালতে স্বীকার করেছেন। সন্ত্রাসী আশিকুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে ঘটনার দুইদিন আগে, সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে কলাতলী এলাকায় সি-ল্যান্ড নামের একটি গেস্ট হাউজে।
ওইদিন আশিক ওই নারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা দেন। আরও টাকা দাবি করলে তার স্বামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এ কারণে বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে ওই নারীকে কলাতলী লাইট হাউজ এলাকার একটি কটেজের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান আশিক।
ওই নারী জবানবন্দিতে আরও বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে সৈকত পোস্ট অফিসের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে আশিকের দুই বন্ধু তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর আশিক তাকে আবার মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান কলাতলী এলাকার জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। তাকে নিয়ে ওই হোটেলের একটি কক্ষে ওঠেন আশিক। সেখানে ইয়াবা সেবন করে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে একটি ফোন কলে পুলিশের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে আশিক কক্ষ থেকে দ্রুত বের হয়ে যান।
ভুক্তভোগী ওই নারী আরও বলেছেন, তিনি হোটেল কক্ষ থেকে বের হয়ে পর্যটন মোটেলের সামনের সড়কে আসেন। সেখানে র্যাবের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে স্বামীকে কথা বলতে দেখেন। পরে র্যাব তাকে নিয়ে হোটেল জিয়া গেস্ট ইনে আসে।