সাতক্ষীরার শাঁখরা কোমরপুর এজি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি
ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: Thursday, 23 December, 2021, 5:51 PM
সাতক্ষীরার শাঁখরা কোমরপুর এজি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি
সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা ইউনিয়নের শাঁখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা, উদাসীনতা ও দায়িত্বে অবহেলা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করায় তার বিরুদ্ধে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা শাঁখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরীফ আহমেদ ইকবালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা ইউনিয়নের শাঁখরা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুসা আমীন গাজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলী গাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রফিক সরদার স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শাঁখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বিগত বছরের ন্যায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে আমরা ছয়জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বসবাস করি। বিগত সময়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করা হতো।
কিন্তু এ বছর এসব অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে আমাদেরকে অসম্মানিত ও অপমানিত করেছে। যেটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিজয়ের মাসে অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। বিগত বছরগুলোতে নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটি আমাদেরকে পরীক্ষার ফলাফল প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী সকল অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে সম্মানিত করত। কিন্তু এ বছর শাঁখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা, উদাসীনতা ও দায়িত্ব অবহেলা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করায় আমরা ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৮ডিসেম্বর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবসীদের নিয়ে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছি।
এছাড়াও তারা আরও বলেন, আমাদেরকে সম্পৃক্ত না করে তার পছন্দমত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে এবং করোনাকালীন সময়ে স্কুল ফান্ডের বহু টাকা আত্মসাত করেছেন। গত ১৩ডিসেম্বর আমাদের উপস্থিতিতে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকল্পে ৮জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করে এবং জমা দেন। অথচ ১৫ডিসেম্বর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে বাঁছাইয়ের সময় দেখা যায় ১৪ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছে এবং তাদেরকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক জানে আমি কিছুই জানি না।
প্রধান শিক্ষক শিক্ষক শরীফ আহমেদ ইকবাল বলেন, এতে কোন অসুবিধা নেই।
এদিকে, এলাকাাবাসী প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন তপশীল বাতিল করে ২৮ডিসেম্বর নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করে বিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলা এবং শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।