সাতক্ষীরায় নদী খননে আবাসন প্রকল্পের ভুমিহীন পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে
ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: Thursday, 23 December, 2021, 9:24 PM
সাতক্ষীরায় নদী খননে আবাসন প্রকল্পের ভুমিহীন পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে
২০১৪ সালে নির্মিত ভুমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের ভবন বাঁচিয়ে নদী খননের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ব্যাংদহা আবাসন প্রকল্পের শতাধিক ভুমিহীন পরিবার। ইতোমধ্যে অসহায় পরিবারগুলো সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালে ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়ায় মরিচ্চাপ নদীর চরভরাটি জমিতে ব্যাংদহা আবাসন আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। সেখানে ২০টি ভবনে ৫টি করে মোট ১০০ ভুমিহীন পরিবার বসবাস করে আসছেন।
সে সময় ভুমি অফিস কর্তৃক যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রকৃত ভুমিহীনদেরকেই ওই প্রকল্পের ঘরগুলো পরিবার গুলোর কাছে হস্তান্তর করেন। চলতি অর্থবছরে মরিচ্চাপ নদী খননের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। খননের পূর্বে খনন এবং মাটি ফেলার জন্য সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে ২০টি ভবনের ১২টিই কমবেশি ভাঙা পড়বে। ফলে ভুমিহীন পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চলমান ঠান্ডায় তীব্র শীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের আশ্রয়ের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এসব পরিবারেরমধ্যে চলছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা
আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ভুমিহীন নুরুল সরদার বলেন, আমি ভুমিহীন অসহায় মানুষ। থাকার মত ঘর ছিলো না। জমিও নেই। ফলে ছিন্নমুলের মত মানবেতর জীবন যাপন করতাম। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রয় পেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছিলাম। কিন্তু এখন যদি ওই ভবন ভেঙে দেওয়া হয় তাহলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। তিনি ভুমিহীনদের ভবন বাঁচিয়ে নদী খননের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সেখানে বসবাসকারী মুকুল হোসেন অহিদুর রহমানসহ সকল বাসিন্দারাই একইভাবে তাদের আশ্রয়ন প্রকল্প বাঁচিয়ে নদী খননের দাবি জানিয়েছেন।