|
গ্রাম্য রাজনীতির সহীংসতায় রাস্তা নির্মানে বাধা
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
|
![]() গ্রাম্য রাজনীতির সহীংসতায় রাস্তা নির্মানে বাধা যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০০ ফুট। ঋষি বাড়ি থেকে শুরু করে প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ ইসমাইল হোসেন এলাকাবাসির সুবিদার্থে বিশাল একর জমি দান করেন। আরো জানা গেছে স্থানীয় আলাউদ্দিনে ছেলে বাবুল শেখ তার পৈত্রিক সম্পত্তি রাস্তা নির্মাণে ৬০০ ফিট জায়গা এলাকাবাসির উন্নয়নে দান করেন। ৫ নং ওয়ার্ডের ছোট কেওয়ারের এই রাস্তাটির জন্য দীর্ঘদিন চরম অবহেলা এবং ভোগান্তির স্বীকার ছিলেন এলাকাবাসি। রাস্তাটি নির্মাণের আগে ঋষি বাড়ির ছোট কেওয়ার প্রাইমারি স্কুলে যাওয়ার কোন প্রধান সড়ক না থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ফিরে তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ইসমাইল হোসেনের সার্বিক প্রচেষ্টায় এবং এলাকাবাসির চলাচলের সুবিদার্থে টংগিবাড়ি উপজেলা পরিষদ থেকে ২৮০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করার জন্য বরাদ্দ পায়। কাঁচা মাটির এই সড়কটির নির্মাণ কাজ ৮০ শতাংশ প্রায় শেষের দিকে। পুরো রাস্তাটি সংযোগ স্থাপনের জন্য মাঝখানে একটি সরকারি পুকুর থাকায় ছোট একটি কালভার্ট সাকোর প্রয়োজন রয়েছে। সাকো কালভার্টের জন্য রাস্তাটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রাস্তা নির্মাণে বাধা প্রদান এবং সাকো কালভার্ট যেন ওই পুকুরের উপর না করা হয়, সেজন্য স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কালনি বেগম বিভিন্ন ভাবে বাধা প্রদান করে আসছে বলে জানায় এলাকাবাসি। তাছাড়া ছোট কেওয়ার এই গ্রামটিতে একটি মাদ্রাসা ও একটি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। শিশু-সহ নানা শ্রেণীপেশার লোকজন এই রাস্তটির জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। জানা গেছে কালনি বেগম ইউপি সদস্য থাকাকালিন এলাকার কোন কাজ করেনি। তাছাড়া স্থানীয় মানুষদের বিভিন্ন দিক থেকে হয়রানি করে আসছে। তার সাথে কেউ কিছু বলতে গেলে মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে থাকেন। আরো জানা গেছে এলাকার অনেককে সে বিভিন্ন মামলা দিয়ে মিথ্যে জেল জরিমানাও করিয়েছে । রাজনীতির অপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় শুরু করেছেন উৎপাত। দিচ্ছেন এলাকার রাস্তাঘাট নির্মানে ও সরকারি কাজে বাধা। তাছাড়া তার সাথে কোন বিষয়ে মীমাংশা করাও যায় না। মামলার ভয়ে তাকে কেউ কোন কিছু বলতে পারে না। ২৮০০ ফুট রাস্তাটিতে পুকুরে মাত্র ৭০ ফুট । সে জায়গাটি কালনি বেগম নিজের বলে দাবি করছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন রাস্তা নির্মান কাজও। সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। দেখা গেছে যে খালটি নিয়ে এত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সে খালটি মুলত সরকারি সম্পত্তি বলে জানান এলাকাবাসি । সরকারি সম্পত্তি কিভাবে নিজের সম্পত্তি এমন প্রশ্নের জবাবে কালনি বেগম বলেন, আমার জায়গা এখানেই আছে। সরকারি খাল অন্যদিকে। আমার জায়গার মধ্যে রাস্তা নির্মাণ হইতে দিমু না। গ্রামটিতে ৫০০০ লোকের একমাত্র প্রধান সড়ক এই রাস্তাটি। কালনি বেগম ছাড়া আর কারোর এই রাস্তাটি নির্মাণে কোন আপত্তি নেই। অনেকে শ্রম দিয়ে, অর্থ দিয়ে, জায়গা দিয়ে এই রাস্তাটি সম্পুর্ণ করার জন্য তরিঘরি করছেন। কিন্তু কালনি বেগমের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে আটকে আছে রাস্তা নির্মাণ কাজ। এ ব্যাপারে টংগিবাড়ি উপজেলার যশলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমেস চোকদার দৈনিক নতুন সময়'কে বলেন, আসলে রাস্তাটি ইসমাইল মেম্বার করতেছে। আমি সাবেক ইউপি সদস্য কালনির বিষয়ে জানি। দুপক্ষকে আমরা ঢেকে এনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।
টংগিবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো। যদি সেখানে সরকারি সম্পত্তি থেকে থাকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
