আসামি একজন, জেল খাটছেন অন্যজন। নাম কিংবা ব্যক্তির ভুলে নয়, স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গিয়েছেন তিনি! শুনে ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার গল্পের কথা মনে পরে গেলেও বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে।
২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পতিতাবৃত্তির অভিযোগে নগরীর চকবাজারের হোটেল ইমামগঞ্জ আবাসিকে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হয় হোটেল মালিক মো. আজাদসহ আটজনের বিরুদ্ধে। পাঁচ আসামি গ্রেফতার হলেও পলাতক ছিল প্রধান আসামি আজাদসহ তিনজন।
মো. আজাদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকার মো. আব্বাসের ছেলে।
চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর হঠাৎ আজাদ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। ২১ সেপ্টেম্বর আজাদকে দুইদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কিন্তু রিমান্ডে ওলট-পালট তথ্য দিতে থাকে সে। পরে জামিনে থাকা ওই মামলার দুই নম্বর আসামি নূর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ওই ব্যক্তি ‘আসল আজাদ’ নয়।
এরপরই আজাদ পরিচয় দেয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সে জানায়- তার নাম রকি। ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আজাদ পরিচয়ে জেল খাটছে সে।
রকি নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকার কর্ণফুলী নামে একটি খাবারের হোটেলে কাজ করতো।
রকির আইনজীবী মো. আরিফুর জামান আরিফ বলেন, রকি নিজেকে আজাদ পরিচয় দিয়ে আমার কাছে আইনি সহায়তা চায়। আমি আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করাই। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে এ মামলায় আমি লড়তে পারবো না বলে আদালতকে জানিয়ে দেই। এরপর থেকে তার পক্ষে আর আদালতে যাইনি।
চট্টগ্রামের চকবাজার থানার ওসি মো. রুহুল আমীন বলেন, রকিকে রিমান্ডে নিলে পরিচয় গোপন করে আজাদ পরিচয়ে আত্মসমর্পণের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। টাকার বিনিময়ে সে এ কাজ করেছে বলে স্বীকার করে। এর বাইরে আরো কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া আজাদকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরো একটি মামলা রয়েছে।