করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আভাস
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 2 November, 2020, 1:31 PM
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আভাস
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে না আসতেই অর্থনীতিতে মন্দার আভাস ইউরোপজুড়ে। এরই মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি ছুটেছে নেতিবাচক ধারায়। এবারের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সব রকম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মন্দা মোকাবিলায় প্রস্তুত তারা।
করোনা সংক্রমণের প্রথম ধাক্কাতেই নাস্তানাবুদ হয়েছিল ইউরোপ। ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা কাটিয়ে এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি অর্থনীতি। এমনই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানীসহ পুরো ইউরোপ।
এরই মধ্যে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানী ও ফ্রান্স। একই পথে হাঁটছে চেক রিপাবলিক ও আয়ারল্যান্ড। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এসব দেশের হোটেল রেস্তোরাঁসহ অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে ইতালি, পরবর্তী লকডাউনের তালিকায় আছে স্পেন ও যুক্তরাজ্য। এমন অবস্থায় নির্মাণ ও উৎপাদনশীল খাতসহ বন্ধের মুখে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোস্ট্যাট এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ইউরোপের জিডিবি প্রবৃদ্ধি এক লাফে ১২ শতাংশে পৌঁছায়। বিশেষ করে ইউরো ব্যবহারকারী ১৯টি দেশের প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকেই প্রবৃদ্ধিতে ধস নামে যা ১৯৯৫ সালের পর সবচেয়ে কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনায় যে খাদে পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতি তা থেকে উঠে আসা সহজ হবে না।
ইউরোপ বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যাপিটাল ইকোনমিকস অ্যান্ড্রু কেনিংহাম বলেন, ‘আবার কবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সুখবর পাব তা বলা মুশকিল। অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফা আঘাতের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। তাই একক মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোতে মন্দা ডেকে এনেছে।’
আবার কবে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সুখবর পাব তা বলা মুশকিল। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের যে দ্বিতীয় দফা আঘাতের ঢেউ আছড়ে পড়ছে তাতে একক মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোতে প্রায় মন্দা নিয়ে এসেছে।
নেদারল্যান্ডভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইং-এর অর্থনীতিবিদ শার্লট ডি মন্টপেলিয়ার বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি আমাদের পেছনের দিকে নিয়ে গেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে এটি আরও নীচে নেমে যাবে।’
দুর্ভাগ্যজনকভাবে তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি আমাদের পেছনের দিকে নিয়ে গেছে আর এ থেকে উত্তরণ প্রায় অসম্ভব। চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও নিচে নেমে যাবে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই নেতিবাচক ধারাকে 'চূড়ান্ত অবনতি' হিসেবে উল্লেখ করে ধস ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লগার্দ বলেন, ‘যেসব তথ্য পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে, ‘আমাদের অর্থনীতি ভাবনার চেয়ে বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে। চতুর্থ প্রান্তিকে কি ঘটবে তা এখনই বলা মুশকিল। আমাদের সব চেষ্টা থাকবে এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার।’
যেসব তথ্য পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে ইউরোপের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ভাবনার চেয়েও দ্রুত গতিতে কমছে। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে ঠিক কি ঘটবে তা এখনই বলা মুশকিল। আমাদের যত রকম সুযোগ আছে তা কাজে লাগিয়ে এ থেকে উত্তোরণের উপায় খুঁজব।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপে বেকারত্বের হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এই হার সামনের দিনগুলো আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।