ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৮ মে ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রবাসীকে ৮ টুকরো করে মরদেহ ফেলে এসে ‘পার্টি’ করেন মা-মেয়ে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 18 May, 2026, 9:52 PM

প্রবাসীকে ৮ টুকরো করে মরদেহ ফেলে এসে ‘পার্টি’ করেন মা-মেয়ে

প্রবাসীকে ৮ টুকরো করে মরদেহ ফেলে এসে ‘পার্টি’ করেন মা-মেয়ে

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যা করে মরদেহ আট টুকরো করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে র‍্যাব-৩। সংস্থাটির দাবি, পরকীয়া সম্পর্ক, অর্থ লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত মা-মেয়ে ও আরেক সহযোগী বাইরে ঘুরতে যান, হোটেলে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসার ছাদে ‘পার্টি’ করেন।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা মোকাররমের কথিত প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা এখনো পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তদের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দরামপুর এলাকায়।

সোমবার রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় র‍্যাব-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, নিহত মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। গত ১৩ মে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে মুগদার মান্ডা এলাকায় হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় যান তিনি।

র‍্যাব জানায়, ওই বাসায় তাসলিমা, হেলেনা ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন মোকাররম। রাতেই মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে বিয়ে ও টাকা ফেরত নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোকাররম তাসলিমাকে দেওয়া অর্থ ফেরত চান এবং ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সময়ে হেলেনা অভিযোগ করেন, তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক আচরণের চেষ্টা করেছিলেন মোকাররম। এসব ঘটনার জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন সকালে নাশতার সময় মোকাররমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংস্থাটি জানায়, হত্যার পর ঘরের রক্ত পরিষ্কার করে মরদেহ আট টুকরো করা হয়। সেগুলো পলিথিন ও বস্তায় ভরে প্রায় ১২ ঘণ্টা বাথরুমে রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে সাত টুকরো বাসার নিচের ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথার অংশ প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলে আসা হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ঘটনার পরদিন অভিযুক্তরা স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করেন। র‍্যাব জানায়, ১৫ মে তারা বাইরে ঘুরতে যান, একটি হোটেলে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসার ছাদে পার্টি করেন। এমনকি প্রতিবেশীদেরও পার্টিতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতার হওয়া হেলেনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরে মোকাররমের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক তাসলিমাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status