ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৮ মে ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কয়লায় জীবিকা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 2 November, 2020, 10:11 AM

কয়লায় জীবিকা

কয়লায় জীবিকা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে ঢলের পানিতে ভেসে আসা কয়লা কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিকরা নদীতে ভেসে আসা কয়লা সংগ্রহ করেন।

যাদুকাটা নদী তীরবর্তী মাহারাম, বড়গোপ, লাউড়েরগড়, ঢালারপাড়, বিন্নাকুলি, ঘাগড়া, মাটিকাটা, মানিগাঁও, লাকমা, সুন্দরপাহাড়ি, রাজাই, চাঁনপুরসহ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ কয়লা তোলা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে ঢলের পানিতে ভেসে আসা কয়লা কুড়াচ্ছেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। প্রতিদিন সকালে নৌকা, কোদাল, ব্যালচা ও জাল নিয়ে নদীর তলদেশের বালু থেকে কয়লা আলাদা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালান তারা।

একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বস্তা কয়লা সংগ্রহ করতে পারেন। যার স্থানীয় বাজার দর এক থেকে দেড় হাজার টাকা। নদী থেকে কয়লা উত্তোলন করার ফলে ব্যবসায়ী-শ্রমিক উভয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এলাকার ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা কয়লা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। প্রতিদিন একজন নারী এক হাজার টাকা ও একজন পুরুষ দেড় হাজার টাকার কয়লা সংগ্রহ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

গ্রামের নুরেছা খাতুন বলেন, গেল বৈশাখ থেকে এলাকায় কোনো কাজ কাম নেই। করোনার কারণে সব বন্ধ। বন্যায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে গুড়া কয়লা ভেসে আসায় এখন তারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন।

পরিবারের সবাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদীতে কয়লা সংগ্রহের কাজ করেন। কয়লা উত্তোলনের আগে তাদের দিন অনেক কষ্টে কেটেছে। এখন কাজের সুযোগ পাওয়ায় পরিবারের অভাব কেটেছে বলেও জানান এই নারী শ্রমিক।

আয়েশা খাতুন বলেন, ভোরে খাবার খেয়ে নৌকা, জাল, ব্যালচা ও কোদালসহ নদীতে এসে কয়লা সংগ্রহ করি।

স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ীরা বলেন, শ্রমিকদের সংগ্রহ করা কয়লা তারা কিনে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। নদী থেকে কয়লা উত্তোলন করার ফলে ব্যবসায়ী শ্রমিক উভয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে।


তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন জানান, করোনার পর এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। যাদুকাটা নদীতে কয়লা উত্তোলন করার ফলে ব্যাপকভাবে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, করোনাকালে শ্রমজীবী মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

যাদুকাটা নদীর বারিকটিলা এলাকা থেকে ঢালারপাড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে কয়লা সংগ্রহ করা হয় বলেও জানান তিনি।

সম্পাদনা: খালেদ সুজন

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status