বন্ধ্যাত্বকরণ আর ভ্যাক্সিনেশনের জন্য সরকারি অর্থ কোন কোন বছর বরাদ্দ থাকলেও সেটি নিয়মিত না। বেশ কিছু সেচ্ছাসেবী সংগঠন রাস্তার কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ আর জলাতঙ্কের টিকাদান করে। সরকারি পশু হাসপাতালের ভূমিকাও এক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়। কুকুর স্থানান্তর বা নিধন যখন কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না, তখন বিনামূল্যে কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণের কর্মসূচি হাতে নিলো প্রাণী কল্যাণ সংগঠন কেয়ার ফর পজ। প্রতি মাসে অন্তত ১শ’ টি কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে টিকাদান কর্মসূচিও পালন করেছে সংস্থাটি। অথচ নিধন বা স্থানান্তর না করে বন্ধ্যাত্বকরণের কাজ করার কথা ছিলো সিটি কর্পোরেশনের।
প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজের নাম CARE FOR PAWS। কেয়ার ফর প’জের স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে কুকুর নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কুকুর রাতে এলাকা পাহারা দিয়ে চুরি ডাকাতি থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করে। ঢাকাকে নিরাপদ করার জন্য কুকুর স্থানান্তর না করে সরকারকে অপরাধ দমনেও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের কুকুর স্থানান্তরের মতো মর্মান্তিক সিদ্ধান্তে ভারাক্রান্ত প্রাণিপ্রেমীরা। কোনভাবেই ঠেকাতে পারছেন না নৃশংস এ উদ্যোগ। ফলশ্রুতিতে অনেক রাস্তার কুকুরের পাশাপাশি কমিউনিটি কুকুর তুলে নিয়ে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। কিছুদিন পরপরই এলাকা থেকে কুকুর গায়েব হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে আসা হচ্ছে মাতুয়াইলে।
দিনের বেলা পড়তে হয় প্রাণিপ্রেমীদের তোপের মুখে। তাই রাতের অন্ধকারে এই কাজ করেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। কোন কুকুরের জ্ঞান ফিরছে, কোনটার ফিরছে না। যেখানে ফেলে আসা হচ্ছে, সেখানে নেই খাওয়ার মতো কোন কিছু। অথচ এই কুকুরগুলো এলাকার প্রাণিপ্রেমীদের দেয়া খাবার, ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। ময়লা আবর্জনা খেয়ে রক্ষা করে পরিবেশের ভারসাম্য।
আইন পরিপন্থী এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন তারা। হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী কোন বেওয়ারিশ কুকুর হত্যা বা অত্যাচার বে-আইনি। তারা বলেন, একটা জাতি কখনো উন্নত হতে পারে না যদি প্রাণীদের প্রতি সদয় না হয়। অপসারণ বা নিধন করে কখনো একটি দেশ আধুনিক হতে পারে না।
বর্তমানে কেয়ার ফর প'জের প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র রাজধানীর কেরানীগঞ্জে। যেখানে অন্তত ৮৫ টি রাস্তার কুকুর বিড়াল আছে। সব প্রাণীই কোন না কোনভাবে মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার। খুব শিগগিরই আশ্রয়কেন্দ্র কেরানীগঞ্জের অন্য স্থানে স্থানান্তর করা হবে। রাস্তার প্রাণীদের জন্য যেখানে আরো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে তারা। সেখানে থাকবে অপারেশন থিয়েটারসহ অপারেশন করার পর রেখে সুস্থ করে তোলার ব্যবস্থা।
কেয়ার ফর পজের ধানমন্ডি ঝিগাতলার ক্লিনিকে চলছে বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম। নতুন আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের পর বন্ধ্যাত্বকরণের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান কেয়ার ফর প'জের চেয়ারম্যান সৌরভ শামীম। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে বিনামূল্যেই করে দেয়া হবে বন্ধ্যাত্বকরণ, সেইসাথে টিকাদান। বন্ধ্যাত্বকরণের পর ৫ দিন রাখা হবে আশ্রয়কেন্দ্রে। তহবিল না থাকলে নেয়া হবে নামমাত্র অর্থ। কোন প্রাণিপ্রেমী চাইলেই অর্থ সহায়তা দিতে পারবেন অসহায় প্রাণীদের জীবন বাঁচাতে।