৭১ সালে বয়স ৮, যুবতী দাবি করে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চান তিনি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 20 September, 2020, 10:25 AM
৭১ সালে বয়স ৮, যুবতী দাবি করে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চান তিনি
জাতীয় পরিচয়পত্রের হিসেবে ১৯৭১ সালে আসমা বিবির বয়স ছিল ৮ বছরের কিছূ বেশি। অথচ সে সময় বয়স ২১ বছর ছিল দাবি করে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চাইছেন জয়পুরহাট মহিলা আওয়ামী লীগের এই নেত্রী। আরেক নেতার অভিযোগে বেরিয়ে এসেছে তার জালিয়াতির প্রমাণ।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আসমা বিবির জাতীয় পরিচয়পত্রে ৮ বছর ৩ মাস বয়স থাকলেও তিনি নিজেকে ১৯৭১ সালে ২১ বছরের যুবতী দাবি করে বীরঙ্গনা স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। সঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বীরাঙ্গনা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। পরে সেই আবেদনের প্রেক্ষিত্রে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি জামুকা কর্তৃপক্ষ জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর যাচাই বাছাইয়ের জন্য চিঠি ইস্যু করে। আর যাচাই বাছাই করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে আসমা বিবির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসহ কাগজপত্রের নানা জালিয়াতির খবর।
জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের বয়সের কোন মিল নেই। জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ১৯৬২ সালের ২০ ডিসেম্বর হলেও কোন দিন মাদ্রাসা না গিয়েই ১৯৬৩ সালে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন মর্মে একটি দাখিল মাদ্রাসা হতে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে তা জমা দিয়েছেন।
জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আজম আলী বলেন, তার বীরাঙ্গনা হওয়ার কথা একেবারেই ভুয়া ও বানোয়াট।
জয়পুরহাট মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রেবেকা সুলতানা বলেন, এই কথা ভুয়া প্রমাণিত হলে তাকে আমরা বহিষ্কার করবো, এছাড়া তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
আসমা বিবি দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের যে জন্ম নিবন্ধন দেখিয়েছেন সেটি জাল বলে দাবি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের।
চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার নামে যে প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়েছে, তা আমি দেই নাই।
সদর উপজেলা কমান্ড মো. আফসার আলী বলেন, আমি এরকম কিছুই তাকে দেইনি। পুরো মিথ্যা কথা।
তবে নিজেকে বীরঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন আসমা বিবি।
আসমা বিবি বলেন, ৭১ সালে আমার বয়স ২১। আমি মুক্তিযুদ্ধাদের সহায়তা করেছি। রাজাকাররা আমাকে নিয়ে এসে নির্যাতন করে।
জামুকা'র চিঠির প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহনাজ সিগমা কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করে একজন পরিদর্শকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে গত ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে আছমা বিবিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়।