কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিম জনপদ মুদাফরগঞ্জে নৃশংস ভাবে কলেজ ছাত্র সায়েম(২২) হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মুদাফরগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বাস্তবায়ন পরিষদ চাই' আহবায়ক সাংবাদিক কাজী শামীম বলেন, অজানা কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এদিকে চাপা ক্ষোভ এলাকাবাসীদের মাঝে এবং অনতিবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ প্রতিবাদ জানাচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এছাড়া সায়েম হত্যাকারীদের এখনো গ্রেফতার না করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুরো ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কলেজ শিক্ষার্থী সায়েম ও প্রতিপক্ষ জসিম উদ্দিনের বাড়ি পাশাপাশি। গত ১ এপ্রিল স্থানীয় বাড়ির বাসিন্দারা সম্পত্তি পরিমাপ করলেও বর্ষার কারণে সীমানা পিলার দিতে পারেনি। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ রাতের অন্ধকারে সকলের অজান্তে নিজেদের সুবিধামতো পিলার স্থাপন করে। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর পর তাদের নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার (৪ জুলাই) সায়েম হোসেন ও অন্যান্যরা পিলার উঠিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জসীম পাটোয়ারি ছেলে লিংকন, লিমন ও লিপনের নেতৃত্বে গত ৫ জুলাই তাদের পক্ষীয় লোকজন সায়েমের বাড়ি গিয়ে তাকে তুলে পাশ্ববর্তী রাস্তায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার মা পারুল বেগম স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। অবশেষে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে ওই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
আইনের শাসন ভূলণ্ঠিত বিধায় হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ অতিক্রম হওয়ার পরও প্রশাসন এখনো সায়েম হত্যাকারী চিহ্নিত ব্যাক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সায়েম এর মায়ের হৃদয় বিদীর্ণ করা আর্তনাদ কাঁদিয়েছে মুদাফরগঞ্জে সকল বিবেকবান মানুষকে। দেশের সর্বক্ষেত্রে মানবতা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ আজ চোখে না পড়ার মতো। এরই ধারাবাহিকতায় সায়েম হত্যাকারীরা এখনো অধরা। কাল বিলম্ব না করে সায়েম হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সমাজে অন্যায় অপরাধ বৃদ্ধি পাবে তাছাড়া দেশের আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা দেখা দিবে।