ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 28 April, 2026, 6:55 PM

বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ

বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জে দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, জমি রেজিস্ট্রি করতে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে যান জমির দাতা শাহনাজ বেগম এবং গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন। দলিল লেখা শেষে রেজিস্ট্রির খরচ জানতে চাইলে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। জমির পরিমাণ ছিল মাত্র ২.৪৮ শতক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলিল লেখক ও গ্রহীতার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে গ্রহীতার স্বজনরা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সমিতির নামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরে অন্যান্য জমির ক্রেতা-গ্রহীতারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তারা অভিযোগ করেন, একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সমিতির নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, জমির পরিমাণ বা মূল্য যাই হোক না কেন, রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত ‘গলা কাটা’ চার্জ দিতে বাধ্য করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে জানানো হলে সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতিতে কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ, শামসুল, সানাউল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও নাজমুল ইসলামসহ প্রায় ১০ জনের একটি ভুঁইফোড় কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগপন্থী একটি কমিটি সমিতি পরিচালনা করলেও সরকার পরিবর্তনের পর তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর বিএনপিপন্থী কয়েকজন দলিল লেখক নির্বাচন ছাড়াই একটি পকেট কমিটি গঠন করেন। তখন থেকেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রবণতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

জমির গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। সরকারি ফি’র বাইরে অন্য কোনো টাকা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ সমিতির নামে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অন্য ভুক্তভোগীরাও জানান, সমিতির উন্নয়নের নামে সামান্য অর্থ নেওয়া হলে আপত্তি থাকত না, কিন্তু জোরপূর্বক বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির বর্তমান দায়িত্বে থাকা শামসুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এখানে কোনো বৈধ সমিতি নেই। যে যার মতো করে টাকা নিচ্ছে—কেউ ৪ হাজার, কেউ ৫ হাজার বা ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান দলিল ভেদে বিপুল পরিমাণ টাকা সমিতির নামে চাঁদা দিতে হয়। 

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। মূলত এখানে কোনো সমিতিই নেই। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status