|
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ গতকাল ২৭ এপ্রিল সোমবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে তদন্তে আসা কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই মারফৎ জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল কুড়িগ্রাম সদর থানায় নার্গিছ বেগম থানায় দায়েরকৃত তার অভিযোগে বলেন, উল্লিখিত গ্রামের ৯৩ বছর বয়সের তার পিতা বৃদ্ধ নছিয়ত উল্যাহর ৪ মেয়ে- নাজমা বেগম(৫৯), লাইলী বেগম(৫৫), লাভলী বেগম(৫৩), নার্গিছ বেগম(৪৪) এবং ৩ ছেলে মৃত: গোলাম রব্বানি (৬৩), গোলাম মোস্তফা(৬১) এবং মিজানুর রহমান(৫৭)- এর মধ্যে বিগত ২০১৮ ইং সালের ৭ অক্টোবর তারিখে ৫৪১০ নং সাব রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ৪৭ শতক জমি নার্গিস বেগম, লাভলী বেগম ও নাজমার নামে লিখে দেয়। উক্ত লিখিত জমি তারা ভোগ দখল করে চাষাবাদ করে আসছিলো। চলতি ইরি মৌসুমে উক্ত ভোগ দকলকৃত জমিতে ধান রোপন করেন তারা। ধানগাছ বড় হতে থাকলে জমিতে পানি দিতে গেলে সময় সময় ভাই এবং ভাইয়ের পরিবারের অন্য লোকজন বাধা দিতো। এরি মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল বেলা ১২ টার দিকে অভিযোগকারীর পুত্র নাহিদ ইসলাম(২৬) জমিতে পানি দিতে গেলে নাহিদকে গালিগালাজ করে জমি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে বিকেল ৪ টায় অভিযোগকারী নার্গিছ এবং অপর বোন নাজমা জমির ধান ক্ষেত দেখতে গেলে অভিযোগকারীর ভাই এবং ভাইয়ের পরিবারের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে জমি থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং হুমকি প্রদান করে যে বাবার জমি ফেরৎ রেজিস্ট্রি করে না দিলে জমি আমরা দখল করবো, ধান কেটে নিয়ে যাবো, জমিতে নামলে জীবন শেষ করে দিব। আমাদের পাকা ধান কাটতে দেয়া হচ্ছে না। এজন্য আমরা থানার অভিযোগ করে আইনগত সু- বিচার চেয়েছি। জমির ধান পেকেছে। আর কয়েক একদিনের মধ্যে ধান না কাটলে ধান গুলো নষ্ট হবে। ওই জমির ফসলই আমাদের আগামী দিনের সম্বল। আমরা বোনেরা অতি কষ্ট জীবন যাপন করি।আমাদের বাঁচান। এমন আবেদন করে বোনদের মধ্যে অভিযোগকারী নার্গিছ বেগম অবশেষে ভাই গোলাম মোস্তফা এবং তার স্ত্রী লিপা বেগম, গোলাম রব্বানীর পুত্র আনোয়ার হোসন(৩৬) ও আতা মিয়া(৩৪) এবং ভাই মিজানুর এবং তার স্ত্রী আরিফা বেগম(৩৮) - এর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই সোহেল রানা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কোন সুরহা করতে পারেননি। পরে বিষয়টি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সরে জমিনে গেলে অভিযোগকারী জানান, তার বৃদ্ধ পিতা নছিয়ত উল্যাহ তার আবাদি জমি থেকে মেয়েরা যতটুকু অংশ পায় তার থেকে কিছু জমি তিন মেয়েকে রেজিস্ট্রি মূলে লিখে দেন। বিষয়টি ভাইয়েরা মেনে নেয়নি। অন্য বোনেরাও জানায়, তাদের ভাইয়েরা বাবার লিখে দেয়া ওই আবাদি জমি পূনঃরায় রেজিস্ট্রি মূলে ফেরৎ চায়। বোনদের দাবি ওই জমি আমাদের বোনদের হক। আমরা বাবার সমগ্র জমি থেকে আরও অংশ পাই। আমাদের এক বোনের পুরো অংশ ভাইয়েরা ভোগদখল করে খাচ্ছে। আমাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে,আমরা আইনগত ভাবেই বিচার চাই। ধান কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকার অনেকে জানিয়েছে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পূর্বেই আইনগত সুবিচার হওয়া উচিত। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওপর দিকে ফাঁড়ি ইনচার্জ বলেন, আজ অথবা কাল সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
