শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষকরা। তবে খাতা মূল্যায়ন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা! এমনই অবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই গণহারে ফেল করার অভিযোগ করেন এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। এজন্য চলতি বছরের জুলাইতে ৫ দফা দাবিতে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হল-
১. ফলাফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সব বিভাগের ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশ করা।
২. অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রির সব বর্ষের ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ।
৪. সিলেবাস অনুযায়ী মানসম্মত প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ উত্তরপত্র মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে সাত কলেজের শিক্ষকের মাধ্যমে করতে হবে।
৫. সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি স্থলে উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী বলেন, সময় বাঁচাতে বর্তমানে আমরা ৯০ শতাংশ উত্তরপত্র পরীক্ষার হল থেকেই বিতরণ করছি মূল্যায়নের জন্য। এর সুফলও শিক্ষার্থীরা পাবে।
এরপর গত ৮ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আশ্বাসে ৫ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন ঢাবি উপাচার্য।
এদিন সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (ফোকাল পয়েন্ট) কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, উত্তরপত্র সাত কলেজের শিক্ষকেরা মূলত দেখবেন। কিছু সংখ্যক উত্তরপত্র দেখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। পরীক্ষার হল থেকেই উত্তরপত্র শিক্ষকদের কাছে পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে।
তবে সাত কলেজের একটি কলেজের একজন অধ্যক্ষ বিডি২৪লাইভকে বলেন, কিছুসংখ্যক নয়, অনেক খাতাই মূল্যায়ন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে সংখ্যাটি কত তা জানাননি তিনি।
হতাশার সুরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পরীক্ষার হল থেকেই উত্তরপত্র বিতরণ করা হবে বলে যে কথা বলা হয়েছিল তাও বাস্তবায়ন হয় নি। এটা বাস্তবায়ন হলে ফলাফল অনেক আগেই দেয়া যেত। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এটা বলেছি, অন্তত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে। কারণ এমনিতেই শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।