রংপুরের পীরগঞ্জ ১৩ নং রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় মজিদপুর এলাকায় হারুন ফকির (৩৮) নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে হত্যা করে কাঁঠাল গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে হারুন ফকির এর স্ত্রী হাসনা বেগম (৩০) পিতা আবুল হোসেন, গ্রাম বড় মজিদপুর পীরগঞ্জ রংপুর। বিগত প্রায় দু’বছর আগে অন্য কোন এক ছেলের সাথে দুই সন্তানের জননী থাকা অবস্থায় পালিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে আবার হারুন ফকির এর সংসার করতে থাকে। পরে আরও এক সন্তানের জননী হবার পর আবারও একই কায়দায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকলের অজান্তে স্বামী হারুন ফকির এর বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানাধীন ধাপের হাট এলাকার হিঙ্গারপাড়া গ্রাম থেকে, চাচাতো ভাই নাহিদ এর সাথে রাতের আঁধারে হাসনা বেগম পালিয়ে যায়।
অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর হাসনা বেগমের স্বামী জানতে পারে, তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে আছেন। এ বিষয়ে ফোনে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে কথা হয় হারুন ফকিরের। এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং হাসনা বেগমের চাচাতো ভাই নাহিদ হারুন ফকিরকে তার শ্বশুরবাড়িতে আসতে বলে, তার স্ত্রীর সাথে বিবাদের মীমাংসা শেষে তার সাথে পাঠিয়ে দিবে বলে।
এমন আশ্বাসে হারুন ফকির ৩০ সেপ্টেম্বর, শ্বশুরবাড়িতে যায়। এলাকাবাসীর ধারণা রাতে সম্ভবত হারুনের সাথে ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে হাসনা বেগমের পরিবারের লোকজন হারুনকে মারধর করলে সেখানেই হারুনের মৃত্যু ঘটে। পরে নিজেরা বাঁচার জন্য ফাঁসিতে ঝুলে মারা গেছে কিংবা আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ির পিছনে একটি কাঁঠাল গাছে গলায় গামছা দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুমুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হারুন ফকিরের শ্বশুর আবুল হোসেন ও স্ত্রী হাসনা বেগমকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।