|
নাটকেও সেন্সরের দাবি
তারকাদের অশ্লীল সংলাপে বিরক্ত দর্শক
সাকিব আল রোমান
|
|
তারকাদের অশ্লীল সংলাপে বিরক্ত দর্শক নাটকগুলোতে কমন সংলাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বাবু’ ও ‘সোনা’। নাটকগুলোতে কমন একটি অনুষঙ্গ হয়ে গেছে অপ্রয়োজনীয় গান। যা কেবলই নাটকের সময়কে দীর্ঘ করা ছাড়া আর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, নাটক এখন গানকে সাপোর্ট দিচ্ছে মিউজিক ভিডিও হিসেবে। যা অত্যন্ত হতাশার ও মহামারী হিসেবে রুপ নিচ্ছে দিনে দিনে। গল্পের সাথে সামঞ্জস্য না রেখেই নাটক-টেলিফিল্মগুলোতে আবেগ ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। কোনো একটা ক্লু নিয়ে গল্পে বিষাদ-বেদনা যোগ করে মিনিটের পর মিনিট নায়িকাদের কাঁন্নার দৃশ্যে অভিনয় করানো চলছেই। বিশেষ করে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তানজিন তিশা কান্নার দৃশ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়ে গেছেন। কেননা একঘেয়েমি নাটকগুলোর ভিড়ে ঠিকই টিভিতে আলোচনায় এসেছে জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, মীর সাব্বিরদের নাটকগুলো। চাকচিক্যের প্রচারণা ছাড়াই ঈদের সেরা অনুষ্ঠান হিসেবে দর্শকের মনে দাগ কেটেছে হানিফ সংকেতের ইত্যাদি। এটি টিআরপি রেটিংয়ে যেমন ছিলো সবার শীর্ষে তেমনি ইউটিউবেও পেয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। গল্পের কমন ফর্মুলা দুইজন মানব-মানবীর প্রেম অথবা দাম্পত্য। সেখানে না থাকছে গল্পের বৈচিত্রতা, না থাকছে চরিত্রের বৈচিত্রতা, না থাকছে লোকেশনের বৈচিত্রতা। থাকছে না অভিনয়শিল্পীদের বৈচিত্রতাও। ঘুরে ফিরে অপুর্ব-নিশোর সঙ্গে মেহজাবীন-তানজিন তিশাকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নাটক। কখনো কখনো সাফা কবির, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মমরা আসছেন। গেল ঈদে এই ক’জন তারকাকেই দেখা গেল চ্যানেলে চ্যানেলে। যার ফলে একঘেয়েমিতে আক্রান্ত দর্শক মুখ ফিরিয়ে ছিলেন নাটক থেকে। অনেকে তাদের ‘কান্নার অভিনেত্রী’ বলেও ডাকা শুরু করে দিয়েছেন। নাটকে তাদের উপস্থিতি মানেই দর্শক ধরে নিচ্ছেন ৪৫ মিনিটের গল্পে ১৫ মিনিট কাঁদবেন এই দুজন- এমনই মন্তব্যে সয়লাব ফেসবুক। চলছে নানারকম ট্রলও। যোগ হয়েছে অপুর্বর সঙ্গে আফরান নিশো ও মেহজাবীনের সঙ্গে তানজিন তিশাসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রীর ন্যাকা ন্যাকা প্রেমিকা ও তরুণী বউ চরিত্রের অভিনয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গেল ঈদের নাটক নিয়ে অনেক হতাশা ঝড়ছে দর্শক ও টিভি মিডিয়ার মানুষদের মধ্যে। তারা ‘সোনা-বাবু’ প্রেম ও অপ্রয়োজনীয় গান-লোকেশন দেখানোর বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে নির্মাতাদের অনুরোধ করছেন। ইউটিউবের ভিউয়ের জন্য একই তারকা, স্বস্তা গল্প ও সংলাপকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশ ও সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে, বিভিন্ন সাফল্য নিয়ে বৈচিত্রময় নাটক নির্মাণের পরামার্শ দিচ্ছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
